হরমুজ প্রণালীতে ধৈর্যহারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সৈন্যরা। তারা সংঘাতে লিপ্ত হওয়ায় আরও চড়ছে উত্তেজনার পারদ। ফুটো হয়ে যাচ্ছে শান্তি চুক্তির আশার বেলুন! হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় শুরু হয়ে যেতে পারে বড় যুদ্ধ।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ফের রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে পশ্চিম এশিয়া। ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মার্কিন সেনাদের হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায়। ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)’ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বলেছে, তাদের কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজে ফের আঘাত লাগলে এই অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।
এরই মধ্যে মঞ্চে আবির্ভূত হচ্ছে আরও কিছু দেশ। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল সুরক্ষায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক মিশনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এইচএমএস ড্রাগন’ নামের ডেস্ট্রয়ারটিকে আগাম মোতায়েন করা সতর্কতামূলক পরিকল্পনার অংশ।
গত মাসে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় সামরিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্য প্রবাহ পুনরুদ্ধারে তা সফল হবে। লন্ডনে দুই দিনব্যাপী এক বৈঠকে ৪৪টির বেশি দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক মিশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বাস্তব দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে বসে নেই পারস্য উপসাগরীয় দেশ ইরানও। তারা ট্রিগারে হাত রেখেই কথা বলছে। হরমুজ প্রণালীতে কাউকে ছাড় দিতে নারাজ তেহরান। হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব ধরে রেখেই যেকোনো চুক্তিতে যেতে আগ্রহী তারা।
এদিকে পাশের দেশ বাহরাইনকেও লাল চোখ দেখিয়েছে মোজতবা খামেনির দেশ। বলা হয়েছে, আমেরিকার লেজুরবৃত্তি না ছাড়লে তাদের জন্য পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি জাতিসংঘ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাহরাইনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে চরম পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়। ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই কড়া বার্তা দেন।
হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এক প্রধান চোকপয়েন্ট। বিশ্বের তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা একে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।
কিন্তু গত কয়েক মাসে সেই প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের জন্য প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে। এই অবরোধ ঘিরেও হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে।
প্রতিবেশী বাহরাইন আর প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছে ইরান। এখন প্রশ্ন—এই হুমকি শান্তি ফেরাবে নাকি মহাযুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিল? পরিস্থিতি আরও জটিল হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বড় ধরনের সংঘাত অনিবার্য।