নতুন নিয়মে ভারতীয় ভিসার আবেদন যেভাবে?

দীর্ঘ দুই বছর পর ফের বাংলাদেশিদের পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। রোববার থেকেই শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া। কিন্তু এবার আর আগের নিয়মে ভিসা পাওয়া যাবে না। বদলে গেছে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম, যুক্ত হয়েছে ওটিপি ভেরিফিকেশন এবং ডকুমেন্ট আপলোডের কড়াকড়ি। একটু ভুল হলেই বাতিল হতে পারে আপনার ফাইল। তাই ভারত যাওয়ার আগে, জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন, কী কী কাগজ লাগবে এবং নতুন নিয়মগুলো আসলে কী কী!

যে কেন্দ্রগুলোতে আবেদন করা যাবে

গত ২৫ জুন ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র পরিদর্শন করে ভিসা প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেন বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রথম ধাপে দেশের প্রধান পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে বা আইভ্যাকে এই আবেদন নেওয়া হবে। হাইকমিশনার জানিয়েছেন, আপাতত এই ৫টি কেন্দ্রে কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি এবং সক্ষমতা বিবেচনা করে দেশের অন্যান্য কেন্দ্রেও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করা হবে। কেন্দ্রগুলো হলো ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্ক, চট্টগ্রামের পূর্ব নাসিরাবাদ, রাজশাহীর বর্ণালী মোড়, খুলনার ছোট বয়রা এবং সিলেটের সোবহানীঘাট।

নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি

এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে, আবেদন করবেন কীভাবে? প্রথমত, আপনাকে আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ভুলভাবে ফর্ম পূরণ করে পিডিএফ কপি ডাউনলোড করতে হবে। আসল খেলাটা শুরু হবে এর পর! কারণ এবার আবেদনের ঠিক আগের দিন আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। আর এর সময়সূচি খুবই কঠোর। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে আপনাকে appointment.ivacbd.com ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ভিসা ফর্মের ইমেইল আইডি দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে। মনে রাখবেন, সাড়ে ৪টার পর সাইন-আপের কোনো সুযোগ নেই। সাইন-আপ করার সময় আপনার ইমেইলে একটি এবং মোবাইলে একটি, মোট দুটি ওটিপি আসবে। এই দুটিই ভেরিফাই করার পর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে প্রোফাইল সম্পূর্ণ করতে হবে। এরপর লগইন করে আপনার প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট আপলোড করে রাখতে হবে। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার তথ্যগুলো রিড করে নেবে।

ডকুমেন্ট আপলোড শেষ? এবার আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ঠিক সন্ধ্যা ৬টায় যখন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট ওপেন হবে, তখন আবার লগইন করলেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে পরবর্তী কার্যদিবসের একটি টাইম স্লট দেখাবে। আপনি চাইলে এটি পরিবর্তন করতে পারবেন, তবে মাত্র একবারের জন্য। স্লট কনফার্ম হলেই অনলাইনে ১ হাজার ৫০০ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি জমা দিতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার আপলোড করা ফাইলটি যেন মূল পিডিএফ হয় এবং ৩০ দিনের বেশি পুরোনো না হয়। কোনো এডিটেড বা বিকৃত ফাইল দিলে আবেদন সাথে সাথে বাতিল।

কী কী কাগজপত্র লাগবে?

এবার ঝটপট মিলিয়ে নিন আপনার কী কী কাগজপত্র রেডি রাখতে হবে:

১. পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ এবং ২টি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। সাথে প্রথম ৪ পাতার কপি এবং আপনার পুরোনো সব পাসপোর্ট অবশ্যই সাথে দিতে হবে, নইলে আবেদন অসম্পূর্ণ গণ্য হবে।
২. ছবি: ৩ মাসের মধ্যে তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজ (২x২) ছবি, যা ফর্মে স্ক্যান করে আপলোডও করতে হবে।
৩. আইডি প্রুফ: এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
৪. ঠিকানার প্রমাণ: বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিলের কপি। এগুলো কোনোভাবেই ৬ মাসের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না।
৫. পেশার প্রমাণ: চাকরিজীবীদের জন্য নো-অবজেকশন লেটার বা এনওসি, ব্যবসায়ীদের জন্য আপডেট ট্রেড লাইসেন্স এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ডের কপি।
৬. আর্থিক সক্ষমতা: ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এন্ডোর্স বা আন্তর্জাতিক ক্রেডিটকার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ ব্যাংকের হালনাগাদ স্টেটমেন্ট।

ভিসা ফি ও পাসপোর্ট ফেরত পাবেন কীভাবে?

অনেকেই জানতে চান ইন্ডিয়ান ভিসা ফি কত? পরিষ্কার জানিয়ে রাখি, ভারত সরকার ভিসার জন্য কোনো টাকা নেয় না। তবে আইভ্যাক বা ভিসা আবেদনকেন্দ্র তাদের প্রসেসিং চার্জ হিসেবে সব ধরনের ভিসার জন্য ১,৫০০ টাকা নিয়ে থাকে, যা আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়ই অনলাইনে পেমেন্ট করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার ভিসা হয়ে গেলে বা প্রসেসিং শেষ হলে, আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি অফিশিয়াল এসএমএস আসবে। সেই এসএমএস পাওয়া মাত্রই আপনি আইভ্যাক কেন্দ্রে গিয়ে আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।

দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়াটা নিশ্চিতভাবেই লাখ লাখ ভ্রমণপিপাসু, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর। তবে নতুন নিয়মের কঠোরতার কারণে আবেদন করার সময় প্রতিটি ধাপ খুব সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে।