ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম আর হোয়াটসঅ্যাপ—প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। এবার সেই মেটাই ঢাকায় নিজেদের অফিস বা ফোকাল পয়েন্ট করার আগ্রহ দেখিয়েছে! নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—বাংলাদেশে কেন হঠাৎ মেটার এত আগ্রহ? আর ঢাকায় সত্যিই যদি মেটার অফিস হয়, তাহলে ফেসবুক ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে দেশের অনলাইন ব্যবসা—কার কী সুবিধা হতে পারে?
কেন বাংলাদেশে মেটার এত আগ্রহ?
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—কেন বাংলাদেশে মেটার এত আগ্রহ? বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেটার সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় একটি অফিস বা ফোকাল পয়েন্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শুধু অফিস নয়, বাংলাদেশের ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসা আরও বড় করতেও মেটা সহযোগিতা করতে আগ্রহী। এর পেছনে বাংলাদেশের বড় ডিজিটাল বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে ছোট-বড় অনেক ব্যবসা এখন এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি, বিজ্ঞাপন এবং ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য মেটার গুরুত্ব শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন ব্যবসা যত বাড়ছে, মেটার প্ল্যাটফর্মও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আর এ কারণেই ঢাকায় একটি স্থানীয় অফিস বা ফোকাল পয়েন্ট হলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং সরকারের সঙ্গে মেটার সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ফলে মেটার আগ্রহের বিষয়টি শুধু ব্যবসা নয়, বাংলাদেশে তাদের প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা এবং স্থানীয় আইন-কানুনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু ফেসবুকের একটি অফিস খোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশে মেটার সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানোর একটি সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
মেটার অফিস ঢাকায় হলে কী সুবিধা?
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ঢাকায় মেটার অফিস বা ফোকাল পয়েন্ট হলে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং ব্যবসায়ীদের কী লাভ হতে পারে? প্রথমত, স্থানীয় ব্যবসার জন্য মেটার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। বাংলাদেশের অনেক ছোট ব্যবসা এখন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছে। বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞাপন ও অনলাইন ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তারা কীভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবসা বাড়াতে পারবেন, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ বাড়তে পারে।
তৃতীয়ত, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সমস্যা, নীতিমালা এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একটি স্থানীয় ফোকাল পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আইন ও ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ে মেটার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
তবে একটা বিষয় এখনই ধরে নেওয়া ঠিক হবে না—অফিস হলেই ফেসবুকের সব সমস্যা সঙ্গে সঙ্গে সমাধান হয়ে যাবে, কিংবা ব্যবহারকারীদের জন্য সব নিয়ম বদলে যাবে। কারণ এখন পর্যন্ত বিষয়টি মূলত অফিস বা ফোকাল পয়েন্ট স্থাপনের আগ্রহ এবং আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। মেটার পক্ষ থেকে ঢাকায় অফিস খোলার চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ্যে আসেনি।
ফেসবুক এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয়—বাংলাদেশে এটি সংবাদ, ব্যবসা, বিজ্ঞাপন এবং অনলাইন আয়েরও বড় একটি জায়গা। সেই প্ল্যাটফর্মের মালিক মেটা যদি ঢাকায় নিজেদের কার্যক্রম আরও বড় করে, তাহলে বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যবসার জন্য সেটি নতুন একটি অধ্যায় তৈরি করতে পারে।
তবে আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো—ঢাকায় অফিস বা ফোকাল পয়েন্ট করার বিষয়ে মেটার আগ্রহের কথা বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, এবং এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সত্যিই ঢাকায় মেটার নতুন অফিসে গিয়ে দাঁড়ায় কি না।