ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে স্থগিত হওয়া ১৯ উপজেলায় রোববার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ১৬টির বেসরকারি ফলাফলে ১৪টিতেই চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ ছাড়া বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আর বাগেরহাটের লালমোহনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক নেতা।
এদিকে ফল ঘোষণার পর আনন্দ মিছিল বের করেন বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকেরা। এ সময় নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তাঁরা।
রোববার ভোট হয়েছে ১৯টি উপজেলায়। এর মধ্যে ইভিএমে ভোট হয় একটিতে। এসব উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটারেরা।
বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া। কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৪৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়েপেয়েছেন ৩৬ হাজার ৯২৪ ভোট।
অন্যদিকে একই জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রি। দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ৭৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৬৯ ভোট।
ঝালকাঠির রাজাপুরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জেষ্ঠ্য সহসভাপতি মিলন মাহামুদ বাচ্চু মৃধা। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২১ হাজার ৫০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফরোজা আক্তার লাইজু দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ২০ ভোট।
একই জেলার কাঠালিয়া উপজেলায় দ্বিতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ মো. এমাদুল হক মনির। দোয়াত-কলম প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সিকদার কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮১ ভোট।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক খান মো. আবু বকর সিদ্দিকী আবারও জয়ী হয়েছেন। কাপ-পিরিচ মার্কা নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২৪ হাজার ৮৫০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম ঘোড়া মার্কা নিয়ে পেয়েছেন ২০ হাজার ৮৯২ ভোট।
বাগেরহাটের মোংলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু তাহের হাওলাদার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিংড়ি মাছ প্রতীকে ২৭ হাজার ৯০২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪১৭ ভোট।
একই জেলার মোরেলগঞ্জে পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, মোরেলগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. লিয়াকত আলী খান নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক মো. মোজাম্মেল হক মোজাম দোয়াত-কলম প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৬ হাজার ৭২৯টি।
শরণখোলায় পরিষদে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, বর্তমান চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন আকন শান্ত আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। আনারস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩০ হাজার ১৯২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মিলন দোয়াত-কলম প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮১৫ ভোট।
নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামছুজ্জামান তালুকদার চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। কাপ-পিরিচ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৬০৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই কিবরিয়া জব্বার ঘোরা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৮ হাজার ১৫ ভোট।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার ১৯ উপজেলার এক হাজার ১৮১ কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর মধ্যে শুধু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়েছে। ভোটের পর কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয় গণনার কাজ।