আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে আন্তর্জাতিক মানের ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে নারায়ণগঞ্জ ফুটবল একাডেমির আয়োজনে ও মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে খালি জায়গায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের নির্দেশনা হলো, যেখানে সম্ভব সেখানে খেলার মাঠ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে আট বিঘা করে জমি বরাদ্দের জন্য ৩০০ সংসদ সদস্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে যে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, তার একটি নারায়ণগঞ্জে করতে চাই। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।’
সাঁতার শেখার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য সাঁতার শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে ২২টি জেলায় বিদ্যমান সুইমিংপুল দ্রুত সংস্কার করা হবে। পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রতিটি জেলায় একটি করে সুইমিংপুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সংস্কারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।’
জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলার গুরুত্ব বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমে আরও ২০টি ক্রীড়া টুর্নামেন্ট অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষাক্রম এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে মূল্যায়নের ৬০ শতাংশ মাঠভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এতে অভিভাবকেরাও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবেন। আমাদের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজিব, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সী এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ টিপুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।



