সৌদি আরবের সঙ্গে ঈদ উদযাপন বিভিন্ন জেলায়

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে বিভিন্ন ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্টের নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো অফিস ও করেসপন্ডেন্টদের পাঠানো খবর।

সাতক্ষীরা: আমাদের করেসপন্ডেন্ট আবুল কাসেম জানান, সাতক্ষীরার ১০টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শতাধিক মুসল্লি ঈদের নামাজ পড়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাউখোলা গ্রামের একটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। জামায়াতে তালা উপজেলার ইসলামকাটি, সদর উপজেলার চাঁদপুর, ভাঁদড়া, বাউখোলা, মিরগিডাঙ্গাসহ জেলার অন্তত ১০টি গ্রামের শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।

লালমনিরহাট: করেসপন্ডেন্ট মাহফুজ রহমান জানান, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মুন্সিপাড়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা রাশেদুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার, সুন্দ্রহবী, কাকিনা, চন্দ্রপু, চাপারহাট, মুন্সিপাড়াও আমিনগঞ্জ ও গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের মুসল্লিরা শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।

মুন্সিগঞ্জ: আমাদের করেসপেন্ডন্ট জিতু রায় জানান, মুন্সিগঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে উৎসব উদযাপন করেন।

প্রধানত সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মিঝিকান্দি, কালিরচর, রাকেরকান্দি এবং শিলই ইউনিয়নের উত্তরকান্দি, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এই আগাম ঈদ উদযাপন করেন। শিলই ইউনিয়নের উত্তরকান্দি মাঝিবাড়ি ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর তরিকার অনুসারীরা জানান, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই হিসাব অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করা উচিত। এ বিশ্বাস থেকেই তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ পালন করে থাকেন।

জামালপুর: আমাদের করেসপন্ডেন্ট সাইমুম সাব্বির শোভন জানান, জামালপুরের তিন উপজেলায় ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৪টি এবং ইসলামপুর উপজেলার ৫টি গ্রাম, মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১ টি গ্রামে এই উৎসব পালন করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদ জামাতে ইমামতি করেন বলারদিয়ার জামে মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদ জামাতে পুরুষের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেন নারীরাও।

মৌলভীবাজার: করেসপন্ডেন্ট তুহিনুর রশিদ জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়েছে মৌলভীবাজার জেলার শতাধিক পরিবারের সদস্যরা। নামাজ শেষে দেশ, জাতির কল্যাণে মোনাজাত করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী ও পুরুষ অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন আব্দুল মাওফিক চৌধুরী (পীর সাহেব উজান্ডি)।  

পটুয়াখালী: আমাদের করেসপন্ডেন্ট আবদুল আলীম খান জানান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। আজ সকাল ৯টায় সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফ মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সদর উপজেলার আরও ৩টি গ্রাম, কলাপাড়ার ৮টি, রাঙ্গাবালীর ২টি, গলাচিপার ৩টি, দুমকির ২টি এবং বাউফল উপজেলার ৩টি গ্রামেও পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়ভাবে এসব মুসল্লি চট্টগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও চানটুপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। জানা গেছে, প্রায় ১০০ বছর ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

দিনাজপুর: করেসপন্ডেন্ট এএসএম আলমগীর জানান, দিনাজপুরের ৫০ স্থানে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে। জেলার ৬টি উপজেলার প্রায় ৫০টি স্থানে আজ ঈদুল ফিতরের  নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিদের একটি অংশ। বিরামপুরে ঈদের নামাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশগ্রহণ করেন।

দিনাজপুর সদর, চিরিরবন্দর , কাহারোল , বোচাগঞ্জ , বিরল ও বিরামপুর উপজেলার কিছু মুসল্লি  ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। কোনো কোনো স্থানে মসজিদ,  মাদ্রাসা মাঠ এবং কোথাও খোলা মাঠে এসব নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

লক্ষ্মীপুর: আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর আব্বাছ হোসেন জনান, জেলার ১১টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে। রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, বারো ঘরিয়া, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর ও রায়পুর উপজেলার কলাকোপাসহ ১১টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধীক মুসল্লি এই আনন্দে শামিল হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এছাড়াও এসব গ্রামের প্রায় সহস্রাধীক মুসল্লি পৃথকভাবে স্ব স্ব ঈদগাঁ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। মাওলানা ইসহাক (রা.) অনুসারী হিসেবে এসব এলাকার মানুষ গত ৪৬ বছর পবিত্র ভূমি মক্কা ও মদিনার সাথে সঙ্গতি রেখে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।

টাঙ্গাইল: করেসপন্ডেন্ট মো. মামুনুর রহমান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার শশীনাড়া গ্রামের ৪০ পরিবারের ঈদ উদযাপন করেছে। শুক্রবার  সকাল ৮ টায় স্থানীয় মসজিদ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজ পড়ান হাফেজ এরশাদ হোসেন। উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের শশীনাড়া গ্রামের কিছু মুসুল্লি ২০১২ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছে।

নারায়ণগঞ্জ: করেসপন্ডেন্ট রাকিব উল হাসান জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় হজরত শাহ্ সুফী মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা মাদ্রাসায় ‘জাহাগিরিয়া তরিকার’ অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং ঈদ উদযাপন করেন। জামাতের ইমামের দায়িত্ব পালন করেন মুফতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন। জামাতে অংশ নিতে গাজীপুরের টঙ্গী, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, পুরাতন ঢাকা, ডেমরা, সাভার এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, বন্দর , আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলা থেকে মুসল্লিরা আসেন।

ধামরাই (ঢাকা): সাভার প্রতিনিধি রুবেল হোসেন জানান, ঢাকার ধামরাইয়ে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় ধামরাই সদর ইউনিয়নের শরীফবাগ এলাকায় ৫০ জনের মতো স্থানীয় নারী-পুরুষ একটি মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই নামাজ আদায় করেন।

শরীয়তপুর: করেসপন্ডেন্ট মো. ছগির হোসেন জানান, শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামে সুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলার প্রধান ও বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বরী দরবার শরীফ মাঠে। এছাড়া ১০টা ৫মিনিটে সুরেশ্বর দরবার শরীফ জামে মসজিদে আরেকটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

জেলার সুরেশ্বর, চন্ডিপুর, ইছাপাশা, থিরাপাড়া, ঘড়িষার, কদমতলী, নীথিরা, মানাখানা, নশাসন, ভুমখারা, ভোজেশ্বর, কালাইখার কান্দি, মাদবর কান্দি, বাঘিয়া, কোটাপাড়া, বালাখানা, প্রেমতলা, ডোমসার, শৌলপাড়া, লাকার্তা, পাপরাইল গ্রামগু‌লোসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের অন্তত ১০ হাজারের বেশি নারী পুরুষ শুক্রবার সকালে নামাজ শেষে বিরানি ও সেমাই খেয়ে ঈদ আনন্দে মেতেছেন।

সুরেশ্বর গদিনীশীন পীর ও মোর্শেদ মাওলানা শাহ্সূফী সাইয়্যেদ শাহনূরে আরিফ এবং সুরেশ্বর পীরের বর্তমান গদিনীশীন মুতাওয়াল্লী সৈয়দ কামাল নুরী জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় দেড়শ বছর ধরে সুরেশ্বর দারবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর (রা.) অনুসারীরা আজ ঈদ উদযাপন করছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: আমাদের করেসপেন্ডন্ট ফয়সাল মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার অন্তত চারটি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার সকালে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত হয়েছে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছিয়াত্তরবিঘি গ্রামে। গ্রামের একটি আম বাগানে ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা ইউসুফ আলী।  শিবগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মুসল্লী ওই জামায়াতে নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও শিবগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের মোমিনটোলা  ও বাগানপাড়া এলাকায়  ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বরিশাল: আমাদের বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালে আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে ১০ হাজারের বেশি পরিবার। চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জাহাগিরিয়া শাহ্সূফী মমতাজীয়া দরবার শরীফের অনুসারীরা এই ঈদ উদযাপন করেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব হরিনাফুলিয়া চৌধূরী বাড়ী শাহসূফী মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।  বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৭০ টি মসজিদে প্রায় ১০ হাজর পরিবার আজ ঈদ উদযাপন করছে।

নোয়াখালী: করেসপন্ডেন্ট আবু নাছের মঞ্জু জানান, সৌদি আরবসহ মধ্যপাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, কবিরহাট ও সদর উপজেলার পাঁচ গ্রামে কাদেরিয়া তারিকার অনুসারী দুই শতাধিক মুসল্লি আজ ঈদ উদযাপন করছেন। তিন উপজেলার ১০টি মসজিদে সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন তারা। বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রামে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর গ্রাম, কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের রামভল্লবপুর গ্রামে সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজশাহী: আমাদের রাজশাহী ব্যুরো থেকে মুস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলার পুঠিয়া ও গোদাগাড়ী উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় উপজেলার কৃষ্ণপুর পৌর এলাকার কৃষ্ণপুর মুসলিম জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করতে আসেন চারঘাট উপজেলার ইমাম শাজিরুল ইসলাম সাগর।

শেরপুর: আমাদের করেসপেন্ডেন্ট মো. মেরাজ উদ্দিন জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শেরপুরের ৭টি গ্রামে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আগাম ঈদের প্রথম জামাত হয় নকলার চরকৈয়া গ্রামে সকাল ৯টায়। আর সকাল ১১টায় সবচেয়ে বড় জামাত হয় সদর উপজেলার বেতমারি ইউনিয়নের চরখারচর গ্রামে। এসব এলাকায় ঈদের আনন্দে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

আগাম ঈদুল ফিতর পালিত গ্রামগুলো হলো- শেরপুর সদর উপজেলার বেতমারি ইউনিয়নের উত্তর চরখারচর ও দক্ষিণ চরখারচর, নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া ও গোবিন্দনগর ছয়আনীপাড়া, নকলা উপজেলার চরকৈয়া এবং ঝিনাইগাতি উপজেলার বনগাঁও চতল ও বামনেরচর।

চাঁদপুর: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে চাঁদপুরে অর্ধশত গ্রামে উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত। শুক্রবার সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরিফে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। এরপর ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জামাত। এখানে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা মাওলানা মুফতি আরিফ চৌধুরী।

জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিগঞ্জ, মতলব উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২৮ সাল থেকে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ পালন করে এ জেলার প্রায় ৫০ গ্রামের বাসিন্দারা। এদিকে সারাদেশে একযোগে ঈদ উদযাপনের উদ্যোগ নিতে আহবান বর্তমান পীর আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।

ঝিনাইদহ: করেসপন্ডেন্ট বিমল কুমার সাহা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা শহরের ফুটবল মাঠ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ।

এবারও উপজেলার দখলপুর, নারায়ণকান্দি, বৈঠাপাড়া, বোয়ালিয়া, চটকাবাড়ীয়া, পারফলসী, পায়রাডাঙ্গা, শৈলকুপার আসাননগর এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন  মুসল্লিরা এ ঈদের নামাজ আদায় করেন। মুসল্লিরা জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে রেখে তারা ২০০৫ সাল থেকে ঈদ জামাতের আয়োজন করে আসছেন।