সকাল থেকে বৃষ্টি না হলেও উজানের ঢলে বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। ফলে হাওরে পানি বেড়ে ফসলের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে তলিয়ে গেছে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান। বৃহস্পতিবার সকালে রোদ ওঠায় বেড়েছে কাটা ধান শুকানোর ব্যস্ততা। তলিয়ে যাওয়া ধানও যতুটুকু পারা যায়, কেটে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষক।
সুনামগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘যে ধান কৃষক কেটেছে আমরা তাদের পরামর্শ দিচ্ছি উঁচু জায়গায় রাখার। আর এসব ধান মেলে রাখতে এবং ফ্যানের ব্যবস্থা করতে বলেছি।’
মৌলভীবাজারে তলিয়ে গেছে হাওরের ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির ধান। বৃষ্টি না থাকলেও উজানের ঢল থাকায় বিভিন্ন হাওরে পানি বেড়েই চলেছে।
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে বানিয়াচংয়ের সুজাতপুর হাওরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের হাওরে তলিয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান। উজানের ঢলের কারণে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার শঙ্কায় কৃষি বিভাগ।
মৌলভীবাজারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাদিকুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করছেন তারা।
নেত্রকোণায় দ্রুত ধান কাটতে অন্য জেলার ৬ হাজার কৃষি শ্রমিক পাঠানোর জন্য ঢাকায় চিঠি দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
নেত্রকোণার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ধান কাটা ও তোলার জন্য অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আনানোর জন্য তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।
নেত্রকোণার প্রশাসন হাওরের ৯ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার কথা বললেও জমির পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলে দাবি কৃষকদের।