জালে মিলছে না ইলিশ, দুশ্চিন্তায় জেলেরা

টানা দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা নিয়ে নদীতে নেমেছিলেন লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশালের জেলেরা। কিন্তু জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না মেলায় উপকূলের ৫২ হাজার নিবন্ধিত জেলেসহ প্রায় ৪ লাখ পরিবার এখন চরম হতাশায়। নদীর নাব্য সংকট, তেলের চড়া মূল্য আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা মৎস্যজীবীরা। মোকামগুলোতেও ইলিশের আকালে বেড়েছে দাম, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই রূপালি ইলিশ ধরতে জাল নিয়ে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ছোটেন জেলেরা। তবে ১ মে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর দশ দিনে লক্ষ্মীপুর ও ভোলার উপকূলে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।

সারাদিনে দু-একটি মাছও পাচ্ছেন না জেলেরা। এতে নৌকার ডিজেল ও মবিলের খরচও উঠছে না। এদিকে তেলের চড়া দাম জেলেদের জন্য যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইলিশের আকালের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় মোকাম বরিশালের পোর্ট রোডেও। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছ আসার কথা, সেখানে এখন ৫০ মণও মিলছে না। 

পোর্ট রোড মৎস্য আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি কামাল শিকদার বলেন, ‘নদীর নাব্যতা সংকট আর ডুবচরের কারণে ইলিশ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে সাগরে ফিরে যাচ্ছে।’

এদিকে সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম আকাশচুম্বী। এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। এমন অবস্থায় ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এখনও ভরা মৌসুম শুরু হয়নি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়লে ইলিশের বিচরণ বাড়বে।’

ঋণের কিস্তি আর পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে উপকূলের লাখ লাখ জেলে পরিবারের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য সংকট দূর করা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই রূপালি সম্পদ হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।