পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ

পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ করেছে, একটি চক্র এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা দুর্বল করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও মনগড়া পোস্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকারের অধীনে পুলিশ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। বাহিনীর জনসেবা ও পেশাদারিত্ব আরও জোরদারে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এ পরিস্থিতিতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এমন অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যাতে পুলিশ সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন এবং বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে দুর্নীতি, অপরাধ ও অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া দক্ষ, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, অপপ্রচারকারী চক্রটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজবনির্ভর পোস্ট তৈরি করে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমন্বিতভাবে ছড়িয়ে দ্রুত ভাইরাল করার চেষ্টা করছে।

বিবৃতিতে আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু ব্যক্তিগত সুনামহানির উদ্দেশ্যে নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা দুর্বল করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে মিথ্যা, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা প্রতিরোধে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে।