শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আজও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বুধবার এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন স্থানে সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। যদিও মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবুও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরা, সায়েন্স ল্যাব মোড় ও মিরপুর-১০ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে তারা সড়কে অবস্থান নেন। পুলিশ সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান অব্যাহত রাখেন। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
উত্তরায় দুপুর দেড়টার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
রাজশাহীতে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের তালাইমারী মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা দুর্ভোগে পড়েন।
দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।
চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেইট এলাকায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জে দুপুরে শহরের ইলিয়ট ব্রিজ পশ্চিমপাড়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক এসএস রোড প্রদক্ষিণ করে বাজার স্টেশন এলাকায় গিয়ে কিছু সময় অবস্থান নেয়। সেখানে সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
গোপালগঞ্জে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ, লালমিয়া সিটি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
ফেনীতে পরীক্ষা শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, দোয়েল চত্বর ও খেজুর চত্বরে জড়ো হন পরীক্ষার্থীরা। পরে দোয়েল চত্বরে সড়ক অবরোধ করলে শহরের ট্রাংক রোডসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকে। অফিসফেরত মানুষ, রোগীবাহী যান এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
শিক্ষার্থীদের এ অবরোধের কারণে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় আটকে থাকা সাধারণ পথচারীরা দ্রুত এ সংকটের সমাধানে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পটুয়াখালীতে দুপুর ১টার দিকে শহরের সিঙ্গারা পয়েন্ট মোড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের সঙ্গে কথা বলে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।
এর আগে সোমবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলা ছাড়া সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অনেক এলাকায় পরীক্ষার্থীদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। একই সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর একটি মোবাইল ফোনালাপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন পরীক্ষার্থীরা।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন।