সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশনের কাছে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে এ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম জানান, বগিটি কী কারণে লাইনচ্যুত হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ণয় করা হবে। উদ্ধারকাজ শেষে পর্যায়ক্রমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার সদানন্দপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
যাত্রীরা জানান, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। ফলে একমাত্র রেললাইনটি বন্ধ হয়ে গেলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুজ্জামান জানান, চিলাহাটি এক্সপ্রেস উল্লাপাড়া স্টেশনে আটকা রয়েছে। এছাড়া যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে একতা, রংপুর, নীলসাগর ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগীসহ জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যেও অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনের খোঁজে স্টেশন ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
এদিকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্টেশনেও আন্তঃনগর ট্রেন আটকা পড়েছে। ঘারিন্দা স্টেশনে রংপুর এক্সপ্রেস, ভূঞাপুরের ইব্রাহীমাবাদ স্টেশনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস এবং মির্জাপুরের মহেড়া স্টেশনে একতা এক্সপ্রেস অপেক্ষমাণ রয়েছে। এতে হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।
টাঙ্গাইল স্টেশনের প্রধান সহকারী মো. রেজাউল করিম জানান, সিরাজগঞ্জে উদ্ধারকাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে আটকে থাকা ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।