টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দিনেদুপুরে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতিকালে ধরা পড়ে গণপিটুনিতে শুকুর আলী নামে (২৫) নামে এক ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে। এসময় ডাকাতদলের অন্য ৫/৬জন সদস্য পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের কদিম ধল্যা নামক স্থানে ‘রোড অপারেশনার ইউনিটে’ ডাকাতিকালে গণপিটুনির এ ঘটনা হয়। রোড অপারেশনার ইউনিট মূলত আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান মহাসড়কগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যান চলাচল মনিটরিং এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত।
নিহত শুকুর আলী টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার নারিদা নগরবাড়ি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের কদিম ধল্যা নামক স্থানে রোড অপারেশনার ইউনিটের কাজ চলমানা রয়েছে। আজ দুপুরে ৬/৭ জনের ডাকাত দল একটি পিকআপ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির চেষ্টা করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী খোকন শেখ তাদের বাধা দিলে তারা নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতদলের সদস্যরা পিকআপ নিয়ে পালিয়ে গেলেও শুকুর আলী নামে ওই ডাকাত জনতার হাতে ধরা পড়েন। পরে স্থানীয় জনতা তাকে গণপিটুনি দিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, আহত নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধার করে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ গিয়ে নিহত ডাকাতদলের সদস্যের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রমিজ রায়হান জানান, নির্মাণাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠান রোড অপারেশনার ইউনিটে ডাকাতির চেষ্টাকালে নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করে ডাকাতদলের সদস্যরা। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ৫/৬ জন ডাকাত পালিয়ে গেলেও একজন জনতার হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনিতে মারা যায়।
মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ডাকাতি নয়, মূলত চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি মামলা রয়েছে।



