সারাদেশে খাল পুনঃখনন ও নাব্যতা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছু জেলায় এখনও শুরু হয়নি কাজ। ঝিনাইদহে খাল খননের ফলে বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষিতে প্রাণ ফিরেছে। এদিকে, সাতক্ষীরায় এখনো খাল খনন না হওয়ায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, গোপালগঞ্জের পৌর এলাকায় দূষণ রোধে পাচুড়িয়া খাল খননের দাবি স্থানীয়দের।
দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির ইতিবাচক ফল পেয়েছে ঝিনাইদহ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির উদ্যোগে ১১টি খাল পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে স্থানীয় জলাশয়গুলোর। বিলের জমে থাকা অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে সহজেই, যা স্বস্তি দিচ্ছে চাষিদের।
ঝিনাইদহ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাশ বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচির ফল পেতে শুরু করেছে ঝিনাইদহের মানুষ। এতে করে বিলে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে সহজেই।’
তবে সাতক্ষীরায় চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। হাজারো খাল-নদী পরিবেষ্টিত এই জেলায় এখনো খাল খননের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট খালগুলো। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ।
সাতক্ষীরা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, ‘সাতক্ষীরা এখনও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।’
এদিকে, গোপালগঞ্জ পৌর শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘পাচুড়িয়া খাল’ এখন দূষণ আর অবহেলার প্রতীক। প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে ঘন কচুরিপানা ও পৌরসভার পচা ড্রেনের বর্জ্যে অবরুদ্ধ খালের গতিপথ। দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উপদ্রবে ডেঙ্গু ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে শহরবাসী।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ফারিহা তানজিন বলেন, ‘খাল খননের অভাবে গোপালগঞ্জের পৌর এলাকার জন্য যথাযথভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এতে মশা–মাছির উপদ্রব বাড়ছে।’
যেখানে সফল পরিকল্পনা কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করছে, সেখানে এই দুই জেলায় প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা আর উদাসীনতায় স্থবির হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবন। দ্রুত সারাদেশে সমন্বিত খাল সংস্কার কার্যক্রম জোরদারের দাবি সংশ্লিষ্টদের।