খাগড়াছড়িতে বৃষ্টি-ঢলে নষ্ট ফসলি জমি, হবিগঞ্জে প্লাবিত ১৫ গ্রাম

খাগড়াছড়িতে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হয়েছে প্রায় ২৭৮ হেক্টর জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঘর-বাড়ি হারিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে। এদিকে হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

শুক্রবার মধ্যরাতে ভারী বৃষ্টিতে হঠাৎ বন্যায় তলিয়ে যায় খাগড়াছড়ির নিচু এলাকা। পাহাড়ি ঢলে বোয়ালখালী খালের পানি বেড়ে স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় অনেক ঘরবাড়ি।

দীঘিনালার অন্তত শতাধিক কাঁচা মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে গেছে অনেক ঘরবাড়ির দেয়াল। ঘর-বাড়ি হারিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে। আকস্মিক বির্পযয় হতবাক স্থানীয়রা।

এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর বাড়ি পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ শেষে দেওয়া হয়েছে সহযোগিতার আশ্বাস। 

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানজিল পারভেজ বলেন, ‘উপজেলার জামতলী, মায়াফাপাড়া, বাঙালীপাড়া এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষ রাতের দিকে অনেকে আকস্মিকভাবে দেখেন যে তাদের ঘরের ভেতরে পানি চলে আসছে।ওই এলাকাটিতে অধিকাংশ মাটির ঘর ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় শতাধিক ঘর ওই এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। আমরা অ্যাসেসমেন্ট করার চেষ্টা করছি ঠিক কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অ্যাসেসমেন্টের কাজ এখনও চলমান। কাজটি শেষ করা হলে সরকারি যে বরাদ্দটা আসবে, তা আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করব। ইতিমধ্যে এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে আমরা এখানে শুকনো খাবারও বিতরণের প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এদিকে, হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জের ১৫ গ্রাম। পানির স্রোতে ধানের জমি, মাছের ঘের ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতিকেই দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।