ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির দায়ে মো. হানিফ শেখ নামে এক কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সাজা পাওয়া হানিফ শেখ বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তিনি কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। নিজ বাড়িতে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন রোগী দেখতেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ওই কিশোরীকে ঝাড়ফুঁক করানোর জন্য হানিফ শেখের কাছে নেওয়া হয়। পরদিন চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে আবার নিজের ঘরে নিয়ে যান হানিফ। সেখানে চিকিৎসার আড়ালে কিশোরীর আপত্তিকর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। ২৪ মার্চ ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, ‘কবিরাজি চিকিৎসার নামে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি একটি জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে আদালতের এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।’



