ছুটির দিনগুলোতে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো মুখর হয়ে উঠলেও হোটেল-রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা। বান্দরবান ও কুয়াকাটার অসংখ্য হোটেল-মোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার গাজীপুরের অনুমোদনহীন কিছু রিসোর্টে মাদকসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পাহাড় কন্যা বান্দরবান। তবে এরমধ্যেই বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার তিন শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশের নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। যেগুলোর আছে, সেগুলোর বেশিরভাগেরই মেয়াদ নেই। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি উঠলেও বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে রিসোর্টের শহর গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দুইশতাধিক রিসোর্ট রয়েছে। যার একটি বড় অংশই নিবন্ধনহীন।
গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাহীন মাহমুদ বলেন, ‘ছুটির দিনে ডিজে পার্টি বা ফেস্টিভ্যালের আড়ালে এসব রিসোর্টে চলে মাদক সেবন, কেনাবেচা ও অনৈতিক কার্যক্রম।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গাজীপুরের তালিকাভুক্ত ২৩৮টি রিসোর্টেরই অনেকগুলোরই নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও বৈধ কাগজপত্র।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।’
পর্যটকদের জীবনের সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা সবার।