বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর পক্ষে টাকা দিয়ে নারীদেরকে মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত করানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শম্ভুর পক্ষে আমতলী পৌরসভার এক কাউন্সিলরের নারীদের টাকা বিতরণের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে টাকা বিতরণকে ‘সমাবেশের জন্য না, দান’ হিসেবে দাবি করেছেন ওই কাউন্সিলর।
শুক্রবার সন্ধ্যায় টাকা বিতরণের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, আমতলী পৌরসভা মিলনায়তনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মীর নারীদের সারিবদ্ধভাবে দাড় করিয়ে টাকা বিতরণ করছেন। তাঁর পেছনেই রয়েছে বরগুনা-১ আসনে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী ব্যানার। এসময় সেখানে আরেকজন নারী কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন।
বরগুনা–১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম ছরোয়ার ফোরকান বলেন, ‘এটা খুবই লজ্জাজনক ব্যাপার। ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর জনসভায় নারীদেরকে টাকার বিনিময়ে উপস্থিত করানো হয়, এর চেয়ে অধঃপতন আর কি হতে পারে? নারীদেরকে প্রার্থীর টাকা দিয়ে বিভিন্ন সমাবেশে নিচ্ছেন আমতলী পৌরসভার মেয়র, এমন অভিযোগ আমি আগেও পেয়েছি। একদিকে তারা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের হুমকি–ধামকি দিচ্ছে। অন্যদিকে কালো টাকার বিনিময়ে লোক দেখাচ্ছে। বিষয়টি আমি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করব।’
এ বিষয়ে পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মীরের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একজন কাউন্সিলর। আমি প্রায়ই গরীব মানুষের মধ্যে আমার পক্ষ থেকে টাকা বিতরণ করি। এখানেও আমার পক্ষ থেকে টাকা বিতরণ করা হয়েছে।’
নির্বাচন চলাকালীন টাকা দেওয়ার বিষয়টি আচরণবিধির লঙ্ঘন—তিনি জানেন কিনা জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান মোবাইলের লাইন কেটে দেন।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘যদি টাকা দেওয়ার সময় আমরা হাতেনাতে ধরতে পারতাম, তবে ভ্রাম্যমান আদালতের আওতায় ব্যবস্থা নিতে পারতাম। যেহেতু সেটা হয়নি, ভিডিওটি দেখার পরে আমরা নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’