দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের দুটি ও বরগুনার একটি আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী। এর মধ্য বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে দলটির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া বরগুনা–১ (তালতলী-আমতলী) আসন থেকেও সড়ে দাঁড়িয়েছেন জাপা প্রার্থী খলিলুর রহমান।
আজ রোববার বেলা ১১টায় বরিশাল নগরীর রজনীগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির আয়োজনে কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।
মতবিনিময় সভার শুরুতে বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) দুটি আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ‘আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। এই নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে সরকারে পক্ষপাতদুষ্ট। এতে খুন, জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পরও বলছেন মোটা দাগে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’
ইকবাল হোসেন তাপস আরও বলেন, ‘জনগণ ও আমার মতামত এই নির্বাচন আবার ভাগাভাগি ও প্রহসনের নির্বাচন দিতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনের সাক্ষী হিসেবে আমরা থাকতে চাই, কিন্তু সেই নির্বাচনের প্রতিযোগী হিসেবে আমরা থাকতে চাই না। জাতীয় পার্টি ২৮৭টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে আর ২৬টি আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ২৬টি ছাড়া বাকিগুলোর প্রার্থীদের ওপর অন্যায়–অবিচার করা হচ্ছে।’
‘নির্বাচন কমিশন বলছে কোনো সহিংসতা হয়নি। কিন্তু দিন দিন সহিংসতা বেড়েই চলছে। ৭ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে লেজুড়ভিত্তিক কিছু মানুষ অংশ নিচ্ছে। তাই আমি এতদিন মাঠ পর্যবেক্ষণ করে ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’– বলেন ইকবাল হোসেন তাপস।
এদিকে, একই সময় নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বরগুনা–১ (তালতলী-আমতলী) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী খলিলুর রহমান।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই পরিস্থিতে নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না। যারা অংশ নিয়েছে তারা নির্বাচন করুক, আমার ভালো লাগেনি, আমার বিশ্বাস হয়নি যে সুষ্ঠু হবে। তাই আমি সড়ে দাঁড়ালাম।’
আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশার মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল। এসময় জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।