ঘূর্ণিঝড় রিমাল

ভোলায় আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছিল মাত্র ২ শতাংশ মানুষ

ঘূর্ণিঝড় রিমালে ভোলার মোট জনসংখ্যার মাত্র দুই শতাংশ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে পেরেছিল জেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্রে না যাওয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা এবং আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য কেউ তাদের অবহিত করেনি। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় চরম ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চান না

ভোলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের মাঝিরহাট এলাকার গৃহবধূ রোকেয়া বেগম জানান, তিন সন্তান আর স্বামী নিয়ে তাঁর সংসার। ২৭ মে (সোমবার) বিকেলে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বাড়ির পাশের গাছ ভেঙে পড়ে তাঁর ঘরের ওপর। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তাঁর স্বামী ফারুক। এতে আহত হন রোকেয়া ও তাঁর শিশু কন্যা।

কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবতা সম্পর্কে কারো কাছ থেকে কোনো ধারণা অথবা পরামর্শ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুধু ফারুক নন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে নিহত হন– চরপাতা গ্রামের কাশেম, বোরহানউদ্দিনের জাহাঙ্গীর, লালমোহন উপজেলার গজারিয়া এলাকার মনেজা খাতুন ও দৌলতখান শহরের ৪ বছরের শিশু মাইসা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনসরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভোলার মোট জনসংখ্যা ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৫১৪ জন। বিভিন্ন চরাঞ্চলে চরম ঝুঁকি নিয়ে বাস করে অন্তত ৫ লাখ মানুষ। অথচ ঘূর্ণিঝড় রিমালে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৩৮ হাজার ২০৩ জনকে। যা মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশ। নানা অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।

নাছির মাঝি এলাকার চিকিৎসক মহিউদ্দিন বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ব্যবহারে উপযোগী নয়। বাহির থেকে বৃষ্টির পানি আসে, বিদ্যুৎ থাকে না, মোমবাতিও পাওয়া যায় না, খাবার পাওয়া যায় না। এ ছাড়া পাওয়া যায় না গবাদি পশু রাখা যায় না ও গরু-ছাগলের খাবার। যে কারণে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন।

এদিকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোকে জনবান্ধব ও ব্যবহার উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি করছেন দুর্যোগে আশ্রয় প্রার্থীরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, ভোলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৮৬৯টি আশ্রয় কেন্দ্র আছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন। বহু চরাঞ্চল রয়েছে যেখানে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র নেই।

জেলা প্রশাসক বলেন, বেশি সংখ্যক মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা চ্যালেঞ্জ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।