ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে সংঘটিত এক কিশোরী ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, প্রধান তিন আসামি মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের কেউই কোনো ধরনের রেমিশন সুবিধা পাবেন না।
এছাড়া অপর তিন আসামি মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত রায়ে আরও নির্দেশ দেন, দণ্ড পাওয়া আসামিদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। প্রয়োজনে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার চার দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ১৫ বছর পর এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয় আজ।
রায়ের সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আনিস রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল জানান, এই রায় ন্যায় সংগত ও ভুক্তভোগী ন্যায় বিচার পেয়েছে।



