পিরোজপুরে আনুমানিক শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নেছারাবাদ উপজেলার আরামকাঠি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির পরিচালক মো. রহমত উল্লাহ। প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক গ্রাহকের এসব টাকা নিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে এ ঘটনায় কয়েক শ গ্রাহকদের তোপের মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সমিতির ম্যানেজার মো. বেল্লাল মিয়াসহ অন্য কর্মচারীরা। সমিতির ম্যানেজারসহ কর্মরত সাত কর্মীকে আটক করেন সদস্যরা। পরে পুলিশ গিয়ে জনরোষ থেকে কর্মচারীদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আজ রোববার সকালে রহমত উল্লাহর পূর্ব জলাবাড়ী গ্রামে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে একটি গরুর খামারে লুটপাট চালান আমানতকারী দাবিদার কিছু গ্রাহক লোক। সরেজমিন দেখা যায়, কেউ গরুর ফার্মের টিন নিয়ে যাচ্ছেন, কেউবা আবার গরু নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বাগান থেকে বস্তা ভরে আম নিচ্ছেন। কেউবা টিউবওয়েল, ফার্নিচার, ধানভাঙার মেশিন, নারিকেল নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক নিলুফা নামে এক নারী অভিযোগ করে জানান, ‘তিনি সমিতিতে এককালীন ১৪ লাখ টাকা জমা রেখেছেন। বিগত কয়েক মাস যাবত টাকা ফেরত চাচ্ছিলেন। শনিবার বিকেলে জানতে পারেন, রহমত উল্লাহ পরিবার নিয়ে উধাও হয়েছেন। গত তিন দিন তাঁর পরিবার এলাকা থেকে লাপাত্তা।’
রওশন আরা নামের এক দিনমজুর নারী অভিযোগ করে বলেন, তিনি রাস্তায় চানাচুর ও ঝালমুড়ি বিক্রি করে রহমত উল্লাহর সমিতিতে এককালীন ২ লাখ এবং প্রতি মাসে ৪ হাজার টাকা করে আমানত রাখতেন। সব মিলিয়ে তিনি ৮ লাখ টাকা পাবেন।
রিনা বেগম নামে এক নারী গ্রাহক বলেন, তিনি মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকা এককালীন সমিতিতে রেখেছিলেন। এভাবে শত শত গ্রাহক একই অভিযোগ করেন।
গ্রাহকের কাছে আটক রহমত মিয়ার সমিতির ম্যানেজার মো. বেল্লাল মিয়া বলেন, ‘শুনেছি রহমত উল্লাহর স্যার চারদিন আগে পরিবার নিয়ে ঢাকায় গেছেন। সেই থেকে তার সাথে আমাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। এখন গ্রাহকরা আমাদের আটকে রেখেছে। আমাদের থানায় দিয়ে দিয়েছে।’
স্থানীয় জলাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর নকিব উল্লাহ সরদার জানান, ‘পালিয়ে যাওয়া সমিতির পরিচালক ও একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফ্ফার মিয়ার ছেলে রহমত উল্লাহর সমিতিতে আমানত রাখার বিষয়ে দু’একজন গ্রাহক আমার কাছে পরামর্শ চায়। এ ব্যাপারে আমি তাদেরকে বলি, উক্ত সমিতির মালিক যদি মারা যায় বা উধাও হয়ে যায় তখন আপনাদের আমানতের কি হবে। এ ক্ষেত্রে কোন কোন আমানতকারী আমার কথা শুনেছেন আবার কেউ শোনেননি।’
নেছারাবাদ উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা মো. হাসান রকি বলেন, ‘তার সমিতির লাইসেন্স বরিশাল বিভাগ থেকে নেওয়া। তারা আমাদের আইন মেনে চলতেন না। শুনেছি এখন নাকি সমিতির পরিচালক পালিয়েছেন। গ্রাহকদের কয়েক হাজার টাকা নিয়ে তারা পালিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই।’
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বনি আমীন জানান, ‘বিষয়টি শুনেছি। আমি পুলিশ পাঠিয়ে খবর নিচ্ছি। রাতেই পুলিশ পাঠিয়ে সমিতির ম্যানেজারসহ মোট সাতজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। রহমত উল্লাহসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় রহমত উল্লাকে আটকের চেষ্টা চলছে।’