স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার আন্দোলনের কর্মীর মুক্তি চেয়ে থানায় মহিউদ্দিন রনিসহ শিক্ষার্থীরা 

স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত এক কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর মুক্তির দাবিতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় অবস্থান নিয়েছেন অন্যতম সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনিসহ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তারা থানায় এসে মুক্তির দাবি জানান তারা।

গ্রেপ্তার কর্মীকে মুক্তি না দিলে স্বেচ্ছায় কারাবরণের ঘোষণাও দিয়েছে থানায় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা হলেও তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়নি।

বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান থেকে সরবে না।

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনি আজ সন্ধ্যায় বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় আসেন। এসময় তার সাথে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী থানায় প্রবেশ করে। এসময় থানার সামনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাইরে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকে।

মহিউদ্দন রনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাত সংস্কার নিয়ে আমরা গত ২৪ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলনে বার বার হামলা হয়েছে। তারপরও আমরা আন্দোলন চালিয়ে আসছি।’ 

রনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে আজ শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার সময় সুহান নামে আমাদের এক কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আমরা জানতে পেরেছি অপারেশন ডেভিল হান্টে ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’ 

রনি আরও বলেন, ‘তারা যদি অপরাধ করে তাহলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হোক।’ 

এর আগে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ থেকে স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের দাবিতে থাকা আন্দোলনের সোহান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুহানকে অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ–কমিশনার মুহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী থানায় এসেছে। আমরা তাদের সাথে কথা বলছি।’ 

প্রসঙ্গত, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সকল সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূরীকরণসহ তিন দফা দাবি আন্দোলনের সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনির বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার রাতে মামলা হয়েছে। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী বাহাদুর সিকদার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে আন্দোলন করছেন একমাত্র নামধারী আসামি রনিসহ তার সহযোগীরা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তাদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও তারা হাসপাতাল কম্পাউন্ডে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ গত রোববার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালের প্রধান গেটে অবস্থান করে গেট ভাঙার চেষ্টা চালায়। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দীলিপ রায় ওই গেট থেকে বের হলে তার পথরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।