নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। মো. আফরোজ নামের এক ব্যক্তি সোমবার ১১০ সংসদীয় এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে এ নিয়ে লিখিত আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ জানুয়ারি পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শামীম আহসান ডাকসু নিয়ে উশৃঙ্খল, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ডাকসু একসময় মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা ছিল, ছাত্রশিবির নির্বাচিত হওয়ার পর তা পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে।
এ ধরনের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ সারা দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এমন বক্তব্য সারা দেশের নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিবেশ নষ্ট করে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি-১৫ এর লঙ্ঘন।
এছাড়াও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হয়েও নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি-২০ এর ‘খ’ ধারা ভঙ্গ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
এই আইন ভঙ্গের অভিযোগে শিক্ষক শামীম আহসানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদানের নির্দেশ দেওয়ার দাবিও করা হয়। একই সঙ্গে বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখ বরগুনা-২ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক শেখ ফারহান নাদিম শামীম আহসানকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। ওই আদেশ অমান্য করে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শামীম আহসানের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. আফরোজ বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখার দাবিতে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে শামীম আহসান ও জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি রিটার্নিং কর্মকর্তা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার কাছে এখনো কোনো নোটিশ আসেনি। বিষয়টি আমি জানি না। তিনি আরও বলেন, ভোটের মাঠের বক্তৃতায় কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে। সে জন্য প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে না।
বরগুনা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তারের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।