ভোলা-১ আসনে বিএনপি সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মোট প্রার্থী আটজন হলেও এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। ভোটারদের মন জয়ে ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আর গ্যাস সংযোগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
ভোলা সদরের এই আসনটি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পাকিস্তান আমল থেকেই বিভিন্ন সরকারের সময় মন্ত্রী ছিলেন। এবার আসনটি সমঝোতার মাধ্যমে বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর। বিএনপির সমর্থন নিয়ে ভোটের মাঠে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পার্থর। আট প্রার্থীর মধ্যে তিনি ছাড়া সবাই নতুন মুখ।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘জনগণ মনে করে কার কাজ করার সক্ষমতা আছে, কার যোগ্যতা আছে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের। দ্বিতীয়ত, ভোটাররা কাকে বিশ্বাস করেন। বর্তমানে এই আস্থার জায়গাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক থাকায় চমক দেখাতে চান ইসলামী আন্দোলনের ওবায়দুর রহমান। তবে প্রভাব ফেলতে পারে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও। অন্যদিকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট মনোনীত নজরুল ইসলাম।
মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘যাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি, তাদের ছাড়াই আমরা এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। কারণ, ভোলা হলো ইসলামী আন্দোলনের ঘাঁটি। আগামী ১২ তারিখে আপনারা চমক দেখবেন। এখানে তাবলিগ জামাত, ওলামায়ে কেরামসহ সর্বস্তরের মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছেন।’
আর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি জনগণের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রচুর বেড়েছে। তাঁরা খুব ভালোভাবে আমাদের গ্রহণ করেছেন। আমি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।’
এদিকে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে সতর্ক ভোটাররা। ভোলা-বরিশাল সেতু, সরকারি মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, গ্যাস সংযোগ ও গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবি তাঁদের।
সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ভোলা-১ আসন। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬৭ জন।