বরগুনায় নির্বাচনী হাওয়া কোন দিকে, বিএনপি না জামায়াত?

ভোটের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, বরগুনার দুটি সংসদীয় আসনে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। বরগুনা-১ ও ২ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই হবে মূল লড়াই। তবে বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ জানিয়ে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী।

নদীবেষ্টিত জেলা বরগুনায় দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের লড়াইয়ে আছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, খেলাফতে মজলিসসহ বিভিন্ন দলের ১৩ জন প্রার্থী।

বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসন। এখানে প্রার্থী চারজন হলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলনের মো. অলি উল্লাহর মধ্যেই।

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের প্রত্যাশাও অনেক। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এক ভোটার জানান, 'রাস্তাঘাট উন্নয়নমূলক কাজ হবে, সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্য যারা করে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।' 

আরেক ভোটারের প্রত্যাশা, প্রার্থী হবে 'একাত্তরের পক্ষে এবং রাত ৩টায় ডাকলেও যাকে পাওয়া যাবে।'

এলাকার উন্নয়নে নিজের দল বিএনপিকেই যোগ্য মনে করছেন ধানের শীষের প্রার্থী। অন্যদিকে, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থীর।

বরগুনা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, '৩৫ বছর পরে মনোনয়ন দিয়েছে এবং বিএনপি যতবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, যেই যেই জায়গায় বিএনপি'র এমপি ছিল, সে সমস্ত জায়গায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।' 

একই আসনের ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ অভিযোগ জানিয়ে বলেন, 'ইদানিং বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতা-কর্মীদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, যে ভোট কাটা হবে, ঘরে আগুন দেওয়া হয়।'  

বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ সংসদীয় আসনে লড়ছেন ৯ জন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মণিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জামায়াতের ডা. সুলতান আহমদ।

এবারও এলাকাবাসী বিএনপিকেই নির্বাচিত করবে বলে আশা নুরুল ইসলাম মণির।  অন্যদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জামায়াত প্রার্থী। 

বরগুনা-২ আসনের বিএনপি প্রাথী মো. নুরুল ইসলাম মণি বলেন, 'আমার সাথে কোথাও কারও সাথে কোনোদিন ঝগড়া হয়নি। আমি দু'বার স্বতন্ত্র (প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত) হয়েছি, তখনও কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু ইদানিং নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই তিন দফা মারামারি, কোপাকুপি হয়ে গেছে আমার এলাকায়।' 

তবে এই আসনে নুরুল ইসলাম মণির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, 'বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কায়েমের জন্য (ভোটাররা) খুবই ঐক্যবদ্ধ, এবং তার অবলম্বন হিসেবে আমাকেই তারা গ্রহণ করেছে বলে আমার ধারণা।' 

এদিকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, 'ভোট দিতে পারবেন- এরকম একটি বিশ্বাস (ভোটাররা যাতে) অর্জন করতে পারেন ভোটের পূর্বেই, সেই পরিবেশ আনবার জন্য আমাদের যা যা করণীয় আমরা সবই করব, এবং করে যাচ্ছি।'  

বরগুনা জেলায় প্রায় ১০ লাখ ১০ হাজার ভোটার। এর মধ্যে ৩১২টি কেন্দ্রে সরাসরি ভোট দেবেন ৮ লাখ ৫৭ হাজার ২১৩ জন। আর পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ে অংশ নেবেন ১১ হাজার ৩০২ জন ভোটার।