বরিশালে জামানত হারালেন ৮৫ প্রার্থী

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের ১৩১ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ৮৫ জন প্রার্থী। এসব প্রার্থীদের জামানত হিসেবে জমা দেওয়া ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা পড়েছে সরকারি কোষাগারে।

নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, একটি আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের আটভাগের একভাগ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পায় তবে তার জমা দেওয়া জামানতের অর্থ বাতিল হয়ে যাবে। এবারে জামানতের অর্থ ছিল ৫০ হাজার টাকা।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মোস্তফা কামাল বলেন, নির্বাচন বিধি অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ কোনো প্রার্থী না পেলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। এবার বরিশালে জামানত হারিয়েছেন ৮৫ প্রার্থী। গত নির্বাচন পর্যন্ত এ টাকার পরিমাণ ছিল প্রার্থী প্রতি ২০ হাজার টাকা। তবে এবারে তা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

নির্বাচন কমিশন আঞ্চলিক দপ্তর থেকে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার মধ্যে বরগুনা জেলার দুটি আসনের ১৩ জন প্রার্তির মধ্যে নয়জন তাদের জামানত হারিয়েছেন। একইভাবে পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের ২০ জন প্রার্থির মধ্যে ১১ জন প্রার্থী, ভোলা জেলার চারটি আসনে ২৯ প্রার্থির মধ্যে ২১ জন, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন, ঝালকাঠি জেলার দুটি আসনের ১৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জন এবং পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের ১৫ প্রার্থীর মধ্যে আটজন তাঁদের জামানত হারিয়েছেন।

জামানত হারানো প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেছেন, ‘প্রথমত আমরা এই প্রথার বিরোধী। এর মাধ্যমে নির্বাচনটাকে ধনীদের কাছে কুক্ষিগত করা হয়েছে। জামানত বাতিল করে সে টাকা সরকারের কাছে রেখে দেওয়া একটা অদ্ভুত ব্যাপার। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানা হতে পারে, এখানে তো তা না। নির্বাচনটাকে জামানত আটকে ব্যবসা করা ঠিক নয়।’

বরিশালে এবারের নির্বাচনে সর্বনিম্ন ৭৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ঝালকাঠি–২ আসনের এক প্রার্থী। পাশাপাশি পিরোজপুর–১ আসনে কেউই তাদের জামানত হারাননি। নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা জামানত সংক্রান্ত এই বিধির পরিবর্তন চেয়েছেন।

বরিশাল মহানগরের সুজন সম্পাদক মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনবিধির মধ্যে এটা একটা বৈষম্য করে দেওয়া হয়েছে। কেউ ২২ হাজার ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছে তো কেউ মাত্র সাত ভোট পেয়ে জামানত হারাচ্ছে। এ আইনের পরিবর্তন দরকার। সম্মানজনক একটা অংক আসা উচিত, যাতে প্রার্থীরা নির্বাচনে আদের আগ্রহ না হারায়।’