পটুয়াখালীতে মাঝনদীতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাত্রী পারাপার, ঈদে ভোগান্তি বাড়ার শঙ্কা

তীব্র নাব্যতা সংকটে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট। পলি জমে টার্মিনালের চারপাশ ভরাট হয়ে যাওয়ায়, ভাটার সময় ঘাটে ভিড়তে পারছে না কোনো লঞ্চ। মাঝনদীতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে। ঈদে ভোগান্তি আরও বাড়ার শঙ্কা যাত্রী ও শ্রমিকদের। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বলছে, ঈদের আগেই ড্রেজিং শেষ করে সংকটের সমধান হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পটুয়াখালী লঞ্চঘাট। এক সময় এই রুট ঢাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলেও, বর্তমানে নাব্যতা সংকটের কারণে হুমকির মুখে এর অস্তিত্ব। বিশেষ করে লঞ্চ টার্মিনালের সামনের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা এখন পরিণত হয়েছে বিশাল বালুচরে।

পলি জমে নদী ভরাট হওয়ায় ভাটার সময় দোতলা লঞ্চগুলো ঘাটে নোঙর করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে নদীর মাঝখানেই লঞ্চ থামিয়ে ছোট ট্রলার বা একতলা লঞ্চের মাধ্যমে যাত্রীদের ওঠা-নামা করতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ড্রেজিং চললেও কোনো সুফল মিলছে না।

যাত্রীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। তবে কোনো সুফল মিলছে না।

চালকেরা বলছেন, নদীতে পানি কম, নাব্যতা একদমই নেই। এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে লঞ্চে নৌপথে যাতায়াত একদমই বন্ধ হয়ে যাবে।

আর কয়েকদিন পরই ঈদ। সে সময় ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়বে কয়েকগুণ। সে ক্ষত্রে ঘাটের এই বেহাল দশায় চিন্তিত লঞ্চ মালিক ও চালকেরা। দ্রুত কার্যকর ড্রেজিং না হলে ঈদ মৌসুমে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা ব্যবসায়ীদের। তবে সংকট নিরসনে আশার কথা শুনিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পটুয়াখালী নদী বন্দরের বিআইডব্লিউটিএ সহকারী পরিচালক জাকির শাহরিয়া বলেন, ‘এবারও আমাদের ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করছি, ঈদযাত্রায় চাপ বাড়ার আগেই ড্রেজিং কার্যক্রম শেষ করে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে পারব।’