পটুয়াখালীতে গণঅধিকার পরিষদের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিয়েকে ঘিরে ব্যতিক্রমী আয়োজন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রচলিত উপহারের পরিবর্তে অতিথিরা বরের হাতে প্রতীকীভাবে ডিজেল তুলে দেন।
মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমের বিয়ের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ডিজেলভর্তি একটি পাত্র উপহার দেন।
বিয়ের এই ব্যতিক্রমী উপহারটি একই দিন রাত ১০টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘তৈলের তীব্র সংকট মোকাবেলায় নতুন জামাই-বউকে তৈল মর্দন।’ এরপরই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সংগঠনটির পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. মহসিন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল মৃধাসহ জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে একটি ৫ লিটারের পাত্রে প্রায় ৩ লিটার ডিজেল ভরে বর-কনের হাতে তুলে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ফারুক হুসাইনের ছেলে শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঙ্গে একই উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের মরহুম মো. শহিদুল ইসলাম খানের মেয়ে শারমিন স্বর্ণার বিয়েতে এ ব্যতিক্রমধর্মী উপহার প্রদান করা হয়।
ডিজেল উপহার প্রদানকারী অতিথিরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ সীমিত থাকায় কৃষি, মৎস্য ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকেরা সেচ দিতে পারছেন না, জেলেরা নদীতে যেতে পারছেন না এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চাপে পড়েছেন। পাশাপাশি খুচরা বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ডিজেল উপহার দিয়ে এই সংকটের বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. মহসিন ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যমান ডিজেল সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছি। এটি ব্যতিক্রম দেখানোর জন্য নয়; বরং একটি বার্তা—জ্বালানি সংকট এখন মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’
এ বিষয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, ‘পটুয়াখালী ও দুমকি উপজেলার একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরেও আমরা তেল পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই আমরা প্রতীকীভাবে এ উপহার দিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনে অনেক বিয়ে দেখেছি, কিন্তু এমন উপহার কখনো দেখিনি। এটি সময়ের বাস্তবতা তুলে ধরেছে।’
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ব্যতিক্রমী উপহার একদিকে যেমন বিয়ের অনুষ্ঠানে নতুনত্ব এনেছে, তেমনি সমাজের বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের বাস্তব চিত্রও সামনে এনেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।