পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ধাওয়া ইউনিয়নের ধাওয়া গ্রামে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ফাঁকা গুলি করা হয়। এ সময় পিস্তলের আঘাতে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম সম্রাট (৬০) নামের একজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধাওয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে রফিকুল ইসলাম সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।
অভিযুক্ত মো. রফিকুল ইসলাম সম্রাট ওই এলাকার মৃত মো. আলী হাওলাদারের ছেলে। অন্যদিকে আহত মো. আলমগীর হোসেন সরদার (৬৫) একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে রফিকুল ইসলাম সম্রাট প্রতিবেশী আলমগীর সরদারের বাড়িতে যান। এ সময় জমির সীমানা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আলমগীরের নাতি মো. তামীম সরদার (১৫) সম্রাটকে ধাক্কা দিলে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সম্রাট তাঁর সঙ্গে থাকা পিস্তল বের করে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির বিকট শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আলমগীর সরদার তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে সম্রাট পিস্তলের বাট দিয়ে তার মাথার ডান পাশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন।
ঘটনার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে আলমগীর সরদার সম্রাটকে ধরে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সম্রাটকে আটক করে। স্বজনেরা আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আহতের মেয়ে ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় সম্রাটকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অস্ত্রসহ আটক রফিকুল ইসলাম সম্রাটকে পিরোজপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।