হাতুড়ি দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ভেঙে দিল প্রতিপক্ষ, শ্রুতিলেখকে দিচ্ছে পরীক্ষা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বিথী আক্তার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বিথী।

বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তারের বিশেষ উদ্যোগে একজন শ্রুতিলেখকের সহায়তায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।

বিথীর পরিবার জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারিকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বিরোধের জেরে তার চাচাতো চাচা হামলা চালালে বিথীর ডান হাত গুরুতর জখম হয়ে ভেঙে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে।

বিথী আক্তার তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারিকাঠি গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের মেয়ে এবং তুষখালী তোফেল আকন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্ত চাচাতো চাচা নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা বিথীর ওপর হামলা চালায়। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। ডান হাতে লিখতে অক্ষম হয়ে পড়ায় তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে বিশেষ আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়।

শারীরিক যন্ত্রণা নিয়েও পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে বিথী ও তার পরিবার প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

শ্রুতিলেখকের সাহায্যে পরীক্ষা দিচ্ছে বিথী আক্তার। ছবি: ইনডিপেনডেন্টবিথীর বাবা মো. বাদল হাওলাদার জানান, সামান্য ঘটনার জেরে তার চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম ও মো. রাহাতের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বিথী বিষয়টি জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। ইউএনওর সহায়তায় তার মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেন সে শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, সেজন্য শ্রুতিলেখক প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শেখ হিলাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।