বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় প্রতিবেশী আলমগীর সিকদারকে (৫২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. আশরাফ উদ্দিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এ কে এম শামসুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর সিকদার উজিরপুর উপজেলার পূর্ব কেশবকাঠি গ্রামের মৃত আ. রশিদ সিকদারের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ দুপুরে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে রশিদ সিকদার। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। লোকলজ্জা ও প্রাণের ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখলেও, পরবর্তীতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনার দুই মাস পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এরপর ২০২৩ সালের ২৯ মে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম শামসুল হক বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আমরা আদালতে ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্ট, ডিএনএ টেস্টের ফলাফল এবং সাক্ষীদের জবানবন্দীসহ যাবতীয় প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। বিচারক সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।’