১১৩ দিন অনুপস্থিত, হঠাৎ বদলির আদেশ নিয়ে হাজির চিকিৎসক!

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সহকারী সার্জন (অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজি) ডা. সিমুনা সিরাজ মীমের বিরুদ্ধে টানা ১শ’১৩ দিন কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় তাকে একাধিকবার কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েও কাজে ফেরাতে না পেরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এমন পরিস্থিতিতেই তিনি সোমবার সকালে বদলির আদেশ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাড়পত্রের জন্য হাজির হন। 

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. আবুল খায়ের মাহমুদ স্বাক্ষরিত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের এক পত্রে বলা হয়েছে, ডা. সিমুনা সিরাজ মীম (কোড-১৫১৮৭২), সহকারী সার্জন/এমও (অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজি), গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত নৈমিত্তিক ছুটি নেন। ২ ও ৩ মার্চ বিলম্বে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর ৪ মার্চ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ১৬ মার্চ একদিন বিলম্বে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সেই হিসাবে ওই সময়ে তার মোট অননুমোদিত অনুপস্থিতি ১১৩ দিন। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির ঘটনায় ডা. সিমুনা সিরাজ মীমকে ধারাবাহিকভাবে তিনটি কৈফিয়ত তলবের নোটিশ দেওয়া হয় এবং কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখিত জবাব দাখিল করলেও তা সন্তোষজনক নয় বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি। পাশাপাশি বিষয়টি অবহিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও একাধিকবার পত্র পাঠানো হয়েছে। 

ইউএইচএফপিও মো. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, বারবার কর্মস্থলে যোগদানের তাগিদ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ফেরেননি। এমনকি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনের সঙ্গে তিনটি কৈফিয়ত তলবের চিঠি, বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দাখিল করা লিখিত জবাবসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু এসব বিষয়ের কোনো প্রতিকার মেলেনি। হঠাৎ ডা. সিমুনা সিরাজ মীম শেবাচিমে বদলির আদেশ নিয়ে ছাড়পত্রের জন্য আজ সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে ছাত্রপত্র দিয়ে দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে ডা. সিমুনা সিরাজ মীম জানান, অসুস্থতা ও ছোট শিশুর সেবার জন্য ছুটিতে ছিলেন তিনি। ১১৩ দিন অনুপস্থিতির বিষয়ে জানান, ছুটি নিয়ে এবং আবেদন করেই ছুটিতে ছিলেন। বাসা বরিশালে হওয়ায় তিনি এখন বরিশালে বদলি হয়েছেন।