পায়রা বন্দরের জাহাজ ঘিরে চোরাই তেল-মাদকের সিন্ডিকেটের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে নির্মিত পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি (কয়লা) নিয়ে আসে একাধিক লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে পণ্য খালাসের আড়ালে মাদক সরবরাহসহ লাখ লাখ টাকার চোরাই তেলের বাণিজ্যের চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে নির্মিত পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি (কয়লা) নিয়ে আসে একাধিক লাইটারেজ জাহাজ। পায়রা সমুদ্র বন্দরের আওতাধীন এই জাহাজগুলো প্রায় প্রতিদিন নির্দিষ্ট জেটি দিয়ে পণ্য খালাস করে। তবে এই পণ্য খালাসের আড়ালেই লুকিয়ে আছে মাদক সরবরাহসহ লাখ লাখ টাকার চোরাই তেলের বাণিজ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একাধিক কোম্পানির লাইটারেজ জাহাজ থেকে প্রায় প্রতিদিন চোরাই পথে তেল পাচার করছে জাহাজের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অসংখ্য অসাধু ব্যক্তিরা সরাসরি এই তেল পাচারে জড়িত। এর বিনিময়ে এসব ব্যক্তিরা মাদকসহ লাখ লাখ টাকার নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্থলপথে গড়ে তোলা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা অভিনব পদ্ধতিতে তৈরিকৃত ছোট ফাইবার বোর্ডে জাহাজের নাবিকদের তীরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। কিন্তু লোক দেখানো এই পারাপারের আড়ালেই চলে লাখ লাখ টাকার অবৈধ কার্যক্রম।

তিনি বলেন, এসব ফাইবার বোর্ডে বিশেষ পদ্ধতিতে তেল মজুতের জন্য আলাদা কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে খুব সহজেই জাহাজ থেকে খুবই কম সময়ে কয়েক হাজার লিটার তেল অপসারণ করে তীরে ফিরে আসে বোর্ডগুলো। এরপর ফাইবার থেকে তেল ব্যারেল ভর্তি করে বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই করা হয়। আর এসব তেল জাহাজ থেকে ৭০/৮০ টাকায় ক্রয় করে কারবারিরা। পরে আবার সেসব তেল স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করে জাহাজ থেকে সরাসরি তেল নামিয়ে আনা চক্র। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেল ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি বলেন, জাহাজে কর্মরত মাদকাসক্ত অনেক ব্যক্তিদের শুধু টাকা দিয়েই খুশি করা সম্ভব হয় না। তাদের ইয়াবা না দিলে তেল বিক্রি করবে না এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। অসাধু ওইসব মানুষগুলোকে মাদক সাপ্লাই দিয়ে খুশি করতে পারলেই বোর্ড বোঝাই করে চোরাই তেল পাওয়া যায়। 

তিনি আরও বলেন, ‘স্থলও পথে পুলিশি ঝামেলা হয় প্রায় সময়েই। মাঝেমধ্যে ব্যারেল বোঝাই তেলের চালান আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু তৈরিকৃত নকল কাগজ দেখিয়ে বৈধ তেল বলে আবার সেসব তেল মুক্ত করে আনা হয়। তবে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে সম্প্রতি সময়ে ক্ষমতাসীন দলের এক ব্যক্তির মাধ্যমে থানার কর্তাদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’

এ বিষয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপটেন শরীফ বলেন, ‘এটা আসলে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। পায়রা বন্দর সীমানায় এমন কর্মকাণ্ড রোধে কোস্ট গার্ডকে আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো অবহিত করা হবে।’ 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে অবশ্যই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ নিয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, থানা পুলিশের বিষয়ে কেউ কিছু বলে থাকলে তা সত্য নয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ এ বিষয়গুলো নৌ-পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের বিষয়। কিন্তু আমাদের থানা পুলিশ কিছু তেল আটক করেছিল। তবে সেসব তেলের বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে পরে মালিক পক্ষ নিয়ে এসেছে।’