বরিশালে ভেজাল সারের দাপট

বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ভেজাল সারের দাপট। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত নমুনার ২৮ শতাংশের বেশি সারই ভেজাল। জিংক সালফেট, জিপসামসহ বিভিন্ন বেসরকারি বা প্যাকেটজাত সারে মিলছে ৪০ থেকে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত ভেজাল উপাদান। তবে জোরালো ও দৃষ্টান্তমূলক আইন না থাকায় বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে অসাধু চক্র।

বরিশালের গ্রামপর্যায়ে বিক্রি হওয়া সারের রাসায়নিক পরীক্ষায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। দিন দিন মাত্রা ছাড়াচ্ছে সারে ভেজালের পরিমাণ। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এসআরডিআই-এর ল্যাব রিপোর্টে দেখা যায় একই চিত্র। 

গত অর্থবছরে সংগ্রহ করা ৫২৭টি নমুনার মধ্যে ১৪৯টিতেই ভেজাল শনাক্ত হয়েছে, যা মোট নমুনার ২৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। বিশেষ করে জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট সারের ১৩৫টি নমুনার মধ্যে ১১৭টিই ভেজাল প্রমাণিত হয়েছে।

বরিশাল এসআরডিআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এফ এম মামুন বলেন, ‘মূল উপাদানের বদলে নিম্নমানের বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারে সার বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। যা জমিতে প্রয়োগে মাটির মূল প্রাণ অণুজীব ধ্বংস হয়ে উর্বরতা হারাচ্ছে জমি।’

কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের তথ্যমতে, গত তিন বছরে বরিশাল বিভাগের ১ হাজার ৭৮টি নমুনার মধ্যে ২৩৪টিতেই মিলছে ভেজাল। 

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জি এম এম কবীর খান বলেন, ‘অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি ব্যবস্থা না থাকায় একই লোক বারবার নকল সার বিক্রি করে পার পেয়ে যাচ্ছে।’

বরিশাল বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, ‘বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত সার নিবন্ধিত ডিলারদের আওতায় এনে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ালে বন্ধ হতে পারে এই জালিয়াতি।’

প্রায় তিন হাজার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে বছরে প্রায় পৌনে চার লাখ মেট্রিক টন সার বিক্রি হয় বরিশাল বিভাগে।কৃষকের স্বার্থে দ্রুত আইন সংশোধন করে ভেজাল সার কারবারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।