মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে বঙ্গোপসাগরে ভাসছেন ১৮ জন জেলে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয় বলে জানা গেছে। এরপর থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে সাগরে অবস্থান করছেন তারা। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও নিরাপত্তা ও সক্ষমতার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে অপারগতা জানানো হয়। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট এক মাছ ব্যবসায়ী।
রাজধানীর রামপুরা এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আলহাজ ফরহাদ পাটোয়ারীর ছেলে জুনায়েত হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি জানান, ৯ সেপ্টেম্বর সকালে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ১৮ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান ট্রলারের মাঝি হানিফ মিয়া। ওই দিন ভোররাতে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়। এরপর ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়া তার বাবাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চান। পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানান। এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশকে একাধিকবার কল করে জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
জুনায়েত আরও জানান, উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়, চলমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলো প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত নৌযান, জনবল এবং উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কথা জানানো হয়েছে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী ট্রলার মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, গত শনিবার সকালে তার বাবাসহ ১৮ জন মাঝিমাল্লা চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। এরপর ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা একই স্থানে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের কোনো সরঞ্জাম তাদের কাছে নেই। তিনি বলেন,‘টহল দলের বর্তমান অবস্থান রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায়। আর বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচর সংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। সার্বিক বিষয় নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে তিনি ভোলা কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। ভোলা কোস্টগার্ডকে জানানোর পর সেখান থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
রাঙ্গাবালী নৌ-পুলিশ ইনচার্জ মো. জায়েদুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো নৌযান, উদ্ধার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই তাঁদের কাছে নেই। তবে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।