কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপিসহ বিরোধী দলের ডাকা হরতাল এবং চলমান তিনদিনের অবরোধে দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। হরতালের সমর্থনে গত রোববার ৮-১০ জন নেতা–কর্মী নিয়ে কয়েক মিনিটের ঝটিকা মিছিলে অংশ নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে তারা। ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচিতে মহাসড়কের মিয়াবাজার এলাকায় আরেকটি ঝটিকা মিছিল করেন দলটির নেতা–কর্মীরা।
এদিকে বিএনপির আন্দোলন ঘোষণার পর থেকেই তা প্রতিহতে চৌদ্দগ্রাম বাজার দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। হরতাল-অবরোধে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে মহড়া দিচ্ছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা–কর্মীরা।
কুমিল্লা-১১ সংসদীয় আসনে বিএনপির অন্তত ৫-৬ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী থাকলেও চলমান আন্দোলনে এসব প্রার্থীর কর্মী–সমর্থকদের কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান চোখে পড়েনি। কমিটি ঘোষণায়, সম্মেলনে দলটির হাজারো নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। কিন্তু আন্দোলনের সময়ে কমিটিতে থাকা এদের কাউকে না পাওয়ার অভিযোগ করেন পদবঞ্চিত দলটির অনেক নেতা–কর্মী। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে।
পদবঞ্চিতদের অভিযোগ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় সকল কমিটিতে যোগ্যদের স্থান না দিয়ে আওয়ামী লীগ, জামায়াত, জাতীয় পার্টি থেকে আসা নেতা–কর্মীদের, অপরিচিত নেতা–কর্মীদের পদ দেওয়া হয়েছে। এতে দলের ত্যাগী নেতা–কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকায় আন্দোলন সংগ্রামে কাউকেই রাজপথে পাওয়া যাচ্ছে না।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘২০১৫ সাল পর্যন্ত চৌদ্দগ্রামে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে অবস্থান করে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। ওই সময়ের রাজপথ আমাদের দখলে ছিল। আওয়ামী লীগ রাজপথে অবস্থান করতেও ভয় পেত। কিন্তু এখন দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ২০১৮ সালের পরে বর্তমান কমিটির হাতে উপজেলা বিএনপি’র নেতৃত্ব চলে যায়। বর্তমান কমিটির যারা দায়িত্বে আছেন, তারাই নেতৃত্ব দিবে আন্দোলন সংগ্রামে কিংবা প্রয়োজন হলে আমাদের ডাকবে। কিন্তু তারা নিজেরাও রাজপথে নামে না, আমাদেরও ডাকে না।’
উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি হাসান শাহরিয়ার খাঁ বলেন, ‘৪৩ কিলোমিটার মহাসড়কে ৪৩ জন নেতা–কর্মীকে আন্দোলনে পাওয়া যায়নি। উপজেলা বিএনপি ও পৌরসভা বিএনপি’র বর্তমান কমিটিতে অন্তত ১ হাজার ২০০ নেতা–কর্মী রয়েছে। এদের কেউই রাজপথে নেই।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ছট্টু বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্বে ছিলাম আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। ওই সময়ের রাজপথ আমাদের দখলেই ছিল। রাজপথ দখলে রাখতে গিয়ে মামলা-হামলাসহ উপজেলায় সর্বোচ্চ মামলায় আসামি হয়েছি। বর্তমান কমিটির দায়িত্ব চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে রাজপথে অবস্থান করা।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জিএম তাহের পলাশী বলেন, ‘সভাপতি থাকাকালীন সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সশরীরে উপস্থিত ছিলাম আমরা। তারপরও ষড়যন্ত্র করে আমাদের সফল কমিটিগুলো কোনো অজানা কারণে ভেঙে দিল আজও আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা কখনো আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ ছেড়ে পালিয়ে যাই নাই। অথচ আজকের নেতৃত্বকে চলমান আন্দোলন সংগ্রামে কর্মীরা খুঁজে পাচ্ছে না। তারপরও আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাই, আসুন সব কিছু ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে সশরীরে উপস্থিত থাকি।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুল হুদাকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রাজু বলেন, ‘আমার সামনে এখন অনেক লোকজন আছে, পরে কথা বলব।’