ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘনার জোয়ারের পানিতে লক্ষ্মীপুরে শীতকালীন ফসল ও পাকা আমন ধানসহ প্রায় এক হাজার একর জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিতে নুয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির আধা-পাকা ধান। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের আরও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। এরইমধ্যে খেতের ধান পাকা শুরু হয়েছে। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে ইটভাটার কয়েককোটি টাকার কাঁচা ইট নষ্ট হয়। শীতকালীন ফসল নষ্ট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ও হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। এবার জেলায় প্রায় ৪ হাজার পাঁচ শ হেক্টর জমিতে শীতকালীন ফসল হয়েছে। আর আমন ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে।
তোরাবগঞ্জের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন পর পাকা ধান ঘরে তোলার কথা। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মিধিলি ও টানা বৃষ্টিতে সব ধান পানিতে ডুবে গেছে। এতে করে খেতের ধান খেতেই নুয়ে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বছরও বৃষ্টির কারণে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে চাষিদের। খাল বিল সংস্কার না করায় বৃষ্টির পানি জমে তাঁদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
চররমনী মোহন এলাকার কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, তিন হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে সব ধান পানিতে ডুবে গেছে। এতে করে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চররুহিতার কৃষক আজাদ হোসেন ও তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'অসময়ের বৃষ্টিতে সকল সবজি পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কী করে সংসার চালাব বা ধার-দেনা শোধ করব। সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।'
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে শীতকালীন ফসলের ক্ষতি হয়। ক্ষতি হয়েছে পাকা ধানের। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বা খেতে পানি জমে ধাকলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের কাজ চলছে।