শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে বসত ঘরের ওপর গাছ পড়ে জুলেখা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের বালিকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জুলেখা বেগম (৬০) ওই গ্রামের মৃত সত্তর আলী বেপারীর স্ত্রী ছিলেন।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাফী বিন কবির জানান, মিধিলির আঘাতে গাছ বসত ঘরের ওপর পড়লে ওই ঘরে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে গাছ ও দেয়াল চাপায় আরও সাত জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফে দেয়াল ধসে চার জন এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, মিরসরাই ও টাঙ্গাইলে ঝড়ে গাছ পড়ে তিন জন মারা গেছে।
মিধিলির প্রভাবে উপকূলীয় জেলাসহ প্রায় সারা দেশেই দিনভর ছিল মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি। বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন খেটে খাওয়া মানুষ। বিনষ্ট হয়েছে খেতের ফসল।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয় বাগেরহাটে। শুক্রবার সকালে তীব্রতা আরও বাড়ে। ঘূর্ণিঝড় মিধিলি উপকূল অতিক্রমের পর কমতে থাকে বৃষ্টি ও বাতাস। পটুয়াখালীতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের তীব্রতা কমে আসে শুক্রবার দুপুরের দিকে। ঝড়ের কারণে অনেক জায়গায় ব্যাহত হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে উপড়ে পড়ে গাছ। বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বন্ধ রাখা হয় হাতিয়ার সাথে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ।
পিরোজপুরের কঁচা, বলেশ্বর, কালিগঙ্গা নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয় জনজীবন।
সাতক্ষীরায় জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়ায় আশাশুনির কুড়িকাহুনিয়া ও রুইয়ার বিলের বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়।


মিধিলির তাণ্ডবে লক্ষ্মীপুরে আমন ধান-রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি, হতাশ কৃষক
ঘূর্ণিঝড় মিধিলি: চট্টগ্রাম–বরিশালে জলাবদ্ধতা
ঘূর্ণিঝড় মিধিলি: সন্দ্বীপে গাছ পড়ে একজনের মৃত্যু 
