ভোট শেষ হওয়ার কিছুদিন আগে প্রার্থিতা বাতিল, সাংবাদিকদের মারধরসহ নানা কারণে দেশজুড়ে সমালোচিত হন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি এবার চটেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ও থানার ওসির ওপর।
সংসদ নির্বাচনে থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বুধবার এক বক্তব্যে সাবেক এই এমপি বলেন, তিনি চাইলে কর্মীরা ওসিকে গাছে বেঁধে পেটাত আর পুরো বাঁশখালী অচল করে দিতে পারতো। এসব হুমকির একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচন চলাকালে শেষ মুহূর্তে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ইনডিপেনডেন্ট টিভিসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের কর্মীর ওপর হামলা চালায় মোস্তাফিজ ও তাঁর কর্মীরা। এছাড়া পুলিশের সাথে দুর্ব্যবহার, অস্ত্র নিয়ে মিছিলসহ নানা কারণে একাধিকবার সমালোচনার মুখেন পড়েন আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপি।
নির্বাচন চলাকালে তিনি থানায় গিয়ে ওসিকে শাসানোর ঘটনায় অভিযোগ যায় ইসিতে। এসব কারণে নির্বাচন শেষ হওয়ার আধ ঘণ্টারও কম সময় আগে প্রার্থিতা বাতিল হয় মোস্তাফিজের। নির্বাচন চলাকালে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা দেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম।
সংসদ নির্বাচনের পর বুধবার প্রথম জনসমক্ষে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ওসি নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তিনি চাইলে পুরো বাঁশখালী অচল করে দিতো আওয়ামী লীগ–যুবলীগ কর্মীরা। ওসিকে গাছে বেঁধে পেটাত। কিন্তু তিনি তা করেননি।
সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে ভিডিওর বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলেম তিনি ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, তিনি যা বলেছেন, তা ঠিকই বলেছেন, ওই ওসি নির্বাচনে আইনের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এ কারণে তিনি তাঁর শাস্তি চান।
এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কাউকে এভাবে হুমকি দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ও নিন্দনীয়।’
সাবেক জাতীয় পার্টির নেতা মোস্তাফিজ আওয়ামী লীগের টিকিটে টানা দুইবার এমপি নির্বাচিত হন।