জলদস্যুদের কবলে বাংলাদেশি জাহাজ

নোয়াখালীর সালেহ আহমদকে ফেরত চায় পরিবার

সোমালিয়ার দস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজ এমডি আব্দুল্লাহর ২৩ জন নাবিকের মধ্যে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সিংবাহুড়া গ্রামের মোহাম্মদ সালেহ আহমদ রয়েছেন। তিনি জাহাজটিতে ফাইটার পদে কর্মরত ছিলেন।

সালেহ আহমদ সিংবাহুড়া গ্রামের সাখায়াত উল্যার ছেলে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় সালেহ আহমদ। তাঁর অপহরণের খবর পাওয়ার পর থেকে স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তানসহ পরিবারটি উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

সালেহ আহমদের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে সালেহ আহমদ অপরিচিত নম্বর থেকে বাড়িতে কল করে প্রায় দুই মিনিট কথা বলেন। এ সময় সবাইকে তাঁর জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান সালেহ।

সালেহ আহমদের বোন জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ‘জাহাজের মালিকসহ সবার কাছে আকুল আবেদন আমার ভাইসহ সকল নাবিককে যেন অক্ষতভাবে উদ্ধার করে আমাদের মাঝে ফেরত দেওয়া হয়।’

গত ৪ মার্চ বাংলাদেশের এস আর শিপিংয়ের ১৩ মিটার গভীরতার জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর গত মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে খবর আসে, ভারত মহাসাগরে জাহাজটি ছিনতাই হয়েছে। জাহাজের ২৩ নাবিককে স্পিডবোটে সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন একজন।

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আছেন ১১ জন। বাকিরা ফেনী, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার। আক্রান্ত নাবিকদের সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এস আর শিপিংয়ের কর্মকর্তারা।

জাহাজটি ছাড়িয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে এস আর শিপিং। এজন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

এস আর শিপিংয়ের মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সব সংস্থার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজ পরিচালনা করছি। তারা আমাদের যেভাবে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।’