স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই, কবিরাজেই ভরসা স্থানীয়দের 

রাঙামাটির বরকলের ২টি ইউনিয়নে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় চরম দুর্ভোগে আছেন বাসিন্দারা। অসুখ-বিসুখে সনাতন পদ্ধতির চিকিৎসা করেই সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। অনেক সময় অপচিকিৎসার কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অনেকে। নিজেদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের দাবি দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের।

রাঙামাটির বরকল উপজেলার আইমাছড়া ও ভুষণছড়া ইউনিয়নে ১২টি গ্রামই প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যাতায়াত ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় এসব গ্রামের বাসিন্দারা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। সেখানে নেই কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ওই ১২ গ্রাম থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে সময় লাগে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা। 

এ অবস্থায় অপুষ্টি-জনিত সমস্যাসহ নানা রোগ-শোকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয়দের। বেশির ভাগ সময় সনাতন পদ্ধতির চিকিৎসাই নিতে হয় তাদের। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘কারোর অসুখ হলে কবিরাজের কাছে যেতে হয়। কবিরাজ বড় একটি তালিকা ধরিয়ে দেয়। এ তালিকা দেখে বন লতাপাতা সংগ্রহ করি। এগুলো পান করি। এ ছাড়াও প্রাণী বলি দিই। এটা করে রোগ ভাল না হলে মরে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না। এখানে অনেক মানুষ আছে। এখানে ক্লিনিক বা ফার্মেসী নাই। নদীতে পানি শুকিয়ে গেলে আমরা কোথাও যেতে পারি না। নিলেও অনেক কষ্ট করতে হয়। ক্লিনিক হলে ভাল হয়।’ 

ভুষণছড়ার চান্দবীঘাট গ্রামে গত ৩ মাসে ৬ জনের মৃত্যুর জন্য অপচিকিৎসাকেই দুষছে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় ওই এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংকটের বিষয়টি সবার সামনে আসে। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাতায়াত-ব্যবস্থা ভালো না থাকায়, রোগীদের হাসপাতালে নিতে সময় লাগে। তাই সাধারণ রোগেও মৃত্যুঝুঁকি বেশি সেখানে। 

বরকলের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মংক্যছিং সাগর বলেন, ‘এখানে যা রোগ হচ্ছে সেগুলো সবগুলো স্বাভাবিক রোগ। কিন্তু এখানে ঔষধের দোকান বা ক্লিনিক না থাকায় কবিরাজ একমাত্র ভরসা।’ 

দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. নীহার রঞ্জন নন্দী। তিনি বলেন, ‘রাঙামাটিতে আরও একাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। জরুরি ভিত্তিতে ভুষণছড়া ও আইমাছড়ায় দুটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। কারণ এখানে ক্লিনিক ছাড়া মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব।’ 

প্রতি সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক-দল পাঠানোর পাশাপাশি বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহের দাবি ওই এলাকার বাসিন্দাদের।