একেবারেই ঈদের কোনোরকম প্রস্তুতি নেই। নেই আনন্দ। মায়ের কান্নাকাটি লেগেই আছে। মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিষণ্ণ। ঢাকার বেইলি রোডে কাচ্চি ভাই এ খেতে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ মারা যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুরের ইতালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউসার। সে কারণে মা ও তার ভাইদের কাছে এবারের ঈদ অনেক বেদনার।
শাহবাজপুরের গ্রামের বাড়ি এখন ফাকা। মোবারক মারা যাওয়ার পর তার মা ছোট ছেলে সৈয়দ আমীর হামজার (আল আমিন) সঙ্গে ঢাকাতে বসবাস করছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকে কর্মরত আমীর হামজা বলেন, ‘এত সহজে কী এই শোক কাটিয়ে ওঠা যাবে। ভাইয়ের কথা যখনই মনে হয় তখনই আম্মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়িতে ঈদ করতে আসিনি। আমার ঈদ তো ছিল আমার এই ভাই। ঈদের নামাজ পড়ে ভাইয়ের কবর জিয়ারত করব। সে কারণে বাড়িতে এসেছি। আম্মা ও আমার স্ত্রী ঢাকাতেই রয়েছেন। এখন নামাজ পড়ে (বুধবার আছর নামাজের পর) কবর জিয়ারত করে আসলাম। আমাদের সবচেয়ে বড় ঈদ ছিল আমাদের ভাই। সবচেয়ে বড় ঈদই নাই, আমার জন্য ঈদ-ই আর কী। আল্লাহ যাতে কাউকে এমন ঈদ না দেয়। তিনি যেন সবাইকে ভালো রাখেন।’
আমীর হামজা আরও বলেন, ‘আগে কেউ মারা গেলে ফিল করতাম না। যখন নিজের ওপর এসেছে কতভাবে যে ফিল করছি। আল্লাহ যাতে কাউকে এত কষ্ট না দেয়। মৃত্যু তো অবধারিত। এটা আসবই। ৫টা কলিজার টুকরোকে একসাথে যদি নিয়ে যায় আর কি ব্যালেন্স থাকে। কষ্টের কোনো সীমা থাকে না। আমাদের পুরো বাড়ির মধ্যমণি ছিল আমার এই ভাই। তিনি সবাইকে সহায়তা করতেন।’
সরাইলের শাহবাজপুরের মৃত আবুল কাশেমের তিন ছেলের মধ্যে মেঝ সৈয়দ মোবারক। ১৫ বছর ধরে ইতালি প্রবাসে ছিলেন। মৃত্যুর একমাস আগে দেশে আসেন। ঘটনার দিন বেইলি রোডের কাচ্চি ভাইয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খেতে। সেখানে আগুনে মারা যান মোবারক ছাড়াও তার স্ত্রী স্বপ্না (৩৫), মেয়ে সৈয়দ কাশফিয়া (১৭) ও সৈয়দা নূর (১৩) ও ছেলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ (৭)। গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে একসারিতে দাফন করা হয় তাদের ৫ জনকে।
মোবারকের বড় ভাই সৈয়দ শোয়েব হাসানও ইতালি প্রবাসী। তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ইতালি রয়েছেন। মা হেলেনা বেগম আর আল আমিনের পরিবার রয়েছে ঢাকায়। মোবারকের পরিবার রাজধানীর মধুবাগ এলাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটেই বসবাস করত। তবে এবার সবাইকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ২০ মার্চ চলে যেতেন তারা ইতালি। সেই যাওয়া আর হলো না।