মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে জোৎসনা বেগম নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এতে ওই নারীর স্বামী আলাউদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জের চরভূতার মেঘনা বাজার এলাকার নুরুল হকের বাড়িতে গতকাল রোববার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত আলাউদ্দিন একই বাড়ির মৃত শাহে আলমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ী।

এদিকে অভিযুক্তরা হলেন– একই এলাকার পার্শ্ববর্তী বাড়ির আবদুর রবের ছেলে সিরাজ উদ্দিন, মাহফুজুর রহমান ও নিজাম উদ্দিন। তাঁরা সম্পর্কে আলাউদ্দিনের খালাতো ভাই।

স্থানীয় ও স্বজনেরা জানান, রমজান মাসে আলাউদ্দিনের বসতঘরের পাশের একটি পুকুরে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মাটি উত্তোলন করে নেন অভিযুক্ত সিরাজ উদ্দিন। এরপর ৪–৫ দিন ওই পুকুরে আবারও পানি নিষ্কাশনের জন্য সেচ পাম্প বসান সিরাজ। এতে বাড়িঘর পুকুরে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় বাধা দিলে আলাউদ্দিনের সাথে সিরাজের কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন সিরাজ।

এরই মধ্যে ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন সিরাজের ভাই পারভেজ হোসেন ও নিজাম উদ্দিন। ওই বিরোধের জেরে রোববার রাত ৩টার দিকে আলাউদ্দিনের বসতঘরে হামলা চালান সিরাজ, মাহফুজ ও নিজামসহ ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। এ সময় দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আলাউদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী জোৎসনা বেগমকে গুরুত্বর আহত করেন তাঁরা। পরে স্থানীয়রা আহত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জোৎসনা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আলাউদ্দিনের অবস্থায় সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. একে আজাদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই জোৎসা বেগমের মৃত্যু হয়। তবে স্বামী আলা উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।