১৩ বছর পর লক্ষ্মীপুরের পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোট হচ্ছে। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে ভোটারদের দাবি নানা অজুহাতে এক যুগের বেশি সময় ধরে ভোট দিতে না পারায় অনেক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এসব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাই এবার যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার কথা ভাবছে তারা। বিএনপি ভোটে না গেলেও আওয়ামী লীগের রয়েছে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার দালাল বাজার, বাংগাখা, দক্ষিণ হামছাদী, লাহারকান্দি ও তেওয়ারীগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়নে ২৮ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, সবশেষ ভোট হয় ২০১১ সালের ২৭ জুন। এরপর সীমানা নির্ধারণ ও মামলা জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে ভোট হয়নি একযুগের বেশি সময়। এতে করে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল নাগরিকেরা। সম্প্রতি সমস্যা সমাধান করে তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী পাঁচটি ইউপিতে বিএনপি ছাড়া ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের ২৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য ৬৩ ও পুরুষ ২২৫ জন প্রার্থী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে উৎসবমুখর পরিবেশে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত চলে প্রচার। পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গ্রাম থেকে শহরের অলিগলি। প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে দলীয় প্রতীক না থাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রার্থীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলাসহ নানা অভিযোগ তোলেন।
এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছেন। আবার কোনো কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময়ে ভোট না হওয়ায় এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের একক আধিপত্য বিস্তার ছিল।
ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ায় এলাকার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত নাগরিকেরা। তাই এবার যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার কথা ভাবছে তারা। ভোটারদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। পাশাপাশি যাকে দিয়ে এলাকার উন্নয়ন, মাদক নির্মূলসহ এলাকার উন্নয়ন হবে তাকে নির্বাচিত করবে। এ ছাড়া যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়, সে আশা করেন ভোটাররা।
দক্ষিণ হামছাদী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মীর শাহ আলম বলেন, ১৩ বছর পর ভোট হচ্ছে। একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে ভোটের মাঠ। এখন পর্যন্ত শান্তিপর্ণূ পরিবেশ রয়েছে। তবে দিন যতই যাচ্ছে, ততই সন্ত্রাসীদের দৌড়াত্ম্য বাড়ছে। প্রতি নির্বাচনের আগে বা পরে প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ হয়। এবারও সে আতঙ্ক রয়েছে।
দালাল বাজার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে গণসংযোগ চলছে। এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো রয়েছে। তবে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে তৎপর রয়েছে একটি চক্র।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। এক যুগের বেশি সময় ধরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যাবেন ভোটাররা। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেন মানুষ নির্বিঘ্নে নিরাপদে ভোট দিতে পারে, নির্বাচন কমিশন থেকে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।