উপজেলা ভােটে ঘনিষ্ঠ দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী

মসজিদে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘আমি নিরপেক্ষ’

এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলের কাউকেই মনোনয়ন বা সমর্থন দেয়নি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদেরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন নির্বাচনকে কোনোভাবেই প্রভাবিত না করেন। তবুও মন্ত্রী–এমপিদের ঘনিষ্ঠ প্রার্থীরা আকার–ইঙ্গিতে হলেও সমর্থন পেতে ব্যাকুল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এ নিয়ে স্পষ্টতই বেকায়দায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। 

আসন্ন দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীই আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ। একজন তাঁর ফুফাত ভাই, আরেকজন সাবেক এপিএস। দুজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই দলীয় নেতাকর্মীরাও হয়ে পড়েছে বিভক্ত।

তবে নিজের উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি শুক্রবার নিজের অবস্থান আবারো পরিষ্কার করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা মডেল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে এসে নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দেন নিজের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা।

মন্ত্রী বলেন-‘ পরিষ্কারভাবে আমি কিছু কথা জানিয়ে দিতে চাই। আজকে ১৭ তারিখ। এরপর ১৮, ১৯, ২০। তারপর ২১তারিখ। কসবায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন। অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন আমি কোন পক্ষে, আপনার ইঙ্গিত কোন দিকে। আজকে এই জুমার দিনে দাঁড়িয়ে আপনাদের বলতে চাই, আমি সবসময় আপনাদের অভিভাবক। আমি সবসময় আপনাদের সন্তান। আমি সবসময় আপনাদের। আমি সকল প্রশাসনের ব্যক্তিত্বকে অনুরোধ করেছি নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে যারা আছে, তাঁরা আমাকে আশ্বস্থ করেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আমি আপনাদের কাছে এইটুকু অনুরোধ করবো, যারা নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্যে দায়িত্ব পালন করছে আপনারা তাঁদের সহযোগিতা করবেন। আমার ইঙ্গিত আমার জনগণের সঙ্গে। জনগণ যাকে পছন্দ করবে যাকে ভোট দিয়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচিত করবে, সে-ই আমার। যে হেরে যাবে সেও আমার। যে প্রার্থী দু-জন আছে তাঁরা দুজনই আমার নিকটের। আপনারা আপনাদের পছন্দমতো ভোট দেবেন। আমার পছন্দে নয়। আপনাদের রায় আমার কাছে শিরোধার্য।’

নির্বাচনের ৩ দিন আগে আজ নিজের নির্বাচনী এলাকা আখাউড়া ও কসবা উপজেলায় সফর করেন আইনমন্ত্রী। এই দুই উপজেলায়ই আগামী ২১ মে ভোট হবে।

কসবায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একজন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন। তিনি এক সময় আইনমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বলা চলে ২৫ বছরের সঙ্গী। অন্যদিকে ভোটের মাঠে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে এসেছেন ছাইদুর রহমান স্বপন। তিনি আনিসুল হকের ফুফাত ভাই। জীবন লড়ছেন আনারস প্রতীকে আর স্বপনের প্রতীক কাপ-পিরিচ। নির্বাচনের শুরু থেকেই নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার কথা বলে আসছেন আনিসুল হক।

এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং পৌরসভা ও ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দু’প্রার্থীকে ঘিরে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী সমাবেশে দাঁড়িয়ে তাঁরা একে–অপরের মুখোশ উন্মোচন করছেন। কে কোন অপকর্মে জড়িত, কারা মাদক ব্যবসার ‘গডফাদার’ সেই ফিরিস্তি দিচ্ছেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এর আগে গত ৫ এপ্রিল রমজানের শেষ জুমার নামাজে কসবা মডেল মসজিদে দাঁড়িয়েও নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন। আজ একই মসজিদে সেকথাই পুনর্ব্যক্ত করলেন।

মসজিদে আনিসুল হক আরও বলেন, ‘আমি শুধু একটাই অনুরোধ করব– যারা নির্বাচন করছেন দুজনই আওয়ামী লীগের। আমার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গালাগালি করবেন না। নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে, তারপরই কিন্তু সকলে সকলের ভাই।’