প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে এবং কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে মশাল হাতে বিক্ষোভ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে আবার ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করে শহীদ মিনারে এসে তাদের মশাল মিছিল শেষ হয়।
‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই, গরীব দুঃখির বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই, মেধা না কোটা মেধা মেধা, সারা বাংলা খবর দে কোটা প্রথার কবর দে, গর্জে উঠো আরেকবার একাত্তরের হাতিয়ার, কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো একসাথে’, বলে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলন সমন্বয়কারীদের একজন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, ‘আমরা সবগুলো কোটার বিলুপ্তি চাই শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী এবং উপজাতি কোটা ছাড়া। এটা শুধু আমাদের দাবি না সারা বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের দাবি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা আক্তার নীড়া বলেন, ‘আমি একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে কোটা বিরোধী আন্দোলনে দাড়িয়েছি। নারী হিসেবে আমি কোন কোটা চাই না আমি আমার মেধা দিয়ে আমার যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে চাই। কোটা প্রথার ফলে দেখা যায় যোগ্য ব্যাক্তিরাও চাকরি পাচ্ছে না। আমরা চাই প্রকৃত মেধাবীরা যাচাই হোক। নারী শিক্ষার্থী হিসেবে বলতে চাই নারীদের জন্য যে কোটা রয়েছে সেই কোটাও যেনো না থাকে।’
প্রসঙ্গত, চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করছে সারা দেশের শিক্ষাথীরা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো— ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা, পরিপত্র বহাল রেখে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত), সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় ছাত্র আন্দোলন হয়। আন্দোলন থেকে সংস্কারের দাবি উঠলেও ওই বছরের ৪ অক্টোবর সব ধরনের কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর ফলে সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিল হয়ে যায়।
পরে ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করে। সেই রিটের রায়ে গত ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশটি অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। এর পর থেকেই চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা মাঠে নামে। রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কয়েক দিন বিক্ষোভের পর ১০ জুন দাবি মানতে সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় ১ জুলাই থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা টানা আন্দোলন করছে।