চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চীনের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চালু করল এমএসসি 

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চীনের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ সার্ভিস চালু করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক জাহাজ মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেডিটেরেনিয়ান শিপিং কোম্পানি- এমএসসি। এরইমধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৪৮১ টিইইউস আমদানি কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ নম্বর জেটিতে ভিড়েছে জাহাজ ‘এমএসসি জিন্না’।

বাংলাদেশে এমএসসি পরিচালক ও লজিস্টিকস প্রধান আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে চীন থেকে বাংলাদেশে পন্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর ব্যবহার করা হয়। এতে একটি কনটেইনার এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে পরিবহনে সাধারণত সময় লাগে ২৫ থেকে ২৬ দিন। কোনো কারণে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জট তৈরি হলে, এই সময় আরও বাড়ে। আমরা সরাসরি চীনের সাথে কন্টেইনার আনা-নেওয়া শুরু করছি। এতে একটি কনটেইনার চীন থেকে বাংলাদেশ অথবা বাংলাদেশ থেকে চীনে যেতে সময় লাগবে ১২ দিন।’ 

সময় বাঁচার পাশাপাশি খরচও কিছুটা কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন এই সার্ভিসে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে তৈরি পোশাক খাতের আমদানিকারকেরা। কারণ এই খাতের বেশিরভাগ কাঁচামাল আসে চীন থেকে।  

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চীন থেকে তৈরি পোশাক খাতে কাঁচামাল বাংলাদেশে আনতে অন্যান্য দেশের ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট ব্যবহার হয়। কখনো কখনো ওইসব বন্দরে জাহাজ জট থাকলে আমাদের আমদানিকৃত কাঁচামাল আসতে সময় লাগে। এতে পোশাক পণ্য প্রস্তুত করে আবার ইউরোপ বা আমেরিকাতে পাঠাতে বেশি সময় লেগে যায়। তাই চায়নার সাথে নিয়মিত সরাসরি জাহাজ চালাচল করলে তৈরি পোশাক খাতসহ অন্যান্য আমদানিকারেরাও উপকৃত হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, ব্যবহারকারীদের সুবিধা বিবেচনা করে চট্টগাম বন্দর ইউরোপের অনেক বন্দরের সাথে সারাসরি জাহাজ চলাচলকে উৎসাহিত করেছে। এরপর থেকে অনেক শিপিং কোম্পানিই চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সরাসরি জাহাজ চালুর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরাসরি জাহাজ চালুর জন্য সবসময় সহযোগিতা করে আসছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে চীন থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা বা মালয়েশিয়ার বন্দরকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এসব বন্দর থেকে চীনে মাদারভ্যাসেলের মাধ্যমে কনটেইনার আনা নেওয়া হয়। আর এসব বন্দর থেকে চট্টগ্রাম রুটে ফিডার জাহাজ ব্যবহার করা হয়। এতে সময়ক্ষেপণ ও ব্যয় বেশি হয়। তবে সরাসরি জাহাজ আসলে সময় ও খরচ দুটিই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।