১ সপ্তাহ ধরে বন্ধ চসিকের বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম। শুক্রবার সীমিত পরিসরে চালু হলেও তা যথেষ্ট নয়। ফলে বিভিন্ন স্থানে তৈরি হচ্ছে আবর্জনার স্তুপ। কর্তৃপক্ষ, সহিংসতায় যানবাহনের ক্ষতির কথা বললেও একে অজুহাত বলে মনে করছে সুশীল সমাজ।

সিটি করপোরেশনের হিসেবে চট্টগ্রামে প্রতিদিন বর্জ্য তৈরি হয় প্রায় দেড় হাজার টন। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সরকার পতনের কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অন্তত ছয় দিন এসব বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিষ্কার করা যায়নি। ফলে বিভিন্ন ডাস্টবিন, গলিতে জমেছে বর্জ্যের স্তুপ। যার পরিমাণ ১০ হাজার টন বলে ধারণা করছে চসিক। 

নগরীর বর্জ্য সরাতে মূল সড়কগুলোতে সাধ্যমত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে তা যথেষ্ট নয়। ফলে নগরবাসীর ভোগান্তি কমেনি। 

এলাকাবাসী বলছেন, আগে যেভাবে রাস্তাঘাট বা বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা নিয়ে যাওয়া হত বা পরিষ্কার করা হত, ছয় থেকে সাত দিন ধরে কেউ তা করছে না। এ কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ।

এ নিয়ে চসিকের প্রধান নির্বাহী শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে বর্জ্য পরিষ্কারের পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকদিনে ময়লা পরিবহনের অন্তত ৫০টি গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। লুট হয়েছে বর্জ্য পরিষ্কারের বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি।

তবে করপোরেশনের দাবি সঠিক নয় বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো। এ অবস্থার জন্য কর্মকর্তাদের গাফিলতিকেই দায় তাদের।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সংকটকালীন সময়ে জনসেবা নিশ্চিত করতে সব সময়ই একটা বিকল্প ব্যবস্থা থাকা জরুরি। 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার কর্মী বর্জ্য সংগ্রহ করে।