লক্ষ্মীপুরে বন্যায় মৎস্যখাতে ক্ষতি ৮০ কোটি টাকা

লক্ষ্মীপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘনার জোয়ারে প্রায় ৪০ হাজার পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় মৎস্যখাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

টানা বৃষ্টি ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে লক্ষ্মীপুরের চারটি পৌরসভা ও পাঁচটি উপজেলার নিমাঞ্চলের ৪০টি এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ বাসিন্দা।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘনার জোয়ারে প্রায় ৪০ হাজার পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় মৎস্যখাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

বন্যার পানিতে গ্রামের ঘরবাড়ি–ফসলি জমি প্লাবিত। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার পুকুর রয়েছে। এরমধ্যে ৪০ হাজার পুকুরের ৯০ শতাংশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তলিয়ে গেছে ৫ হাজার ৩০০ হেক্টর মাছ চাষের জলাশয়। এতে মৎস্য চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। যার পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার মতো হতে পারে।

এদিকে শরৎকালীন সবজি ও আমনের বীজতলাসহ প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরের বিভিন্ন ফসলের জমিতে ক্ষতি হয়েছে আরও ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি বিভাগ। বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যার আরও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে রামগতির চরআবদুল্লাহ, চররমিজ, পোড়াগাছা, চরআলেকজান্ডার, বড়খেরী, কমলনগরের পাটওয়ারীহাট, সাহেবেরহাট, চরকালকিনি, চরফলকন, সদরের চররমনী মোহন, চরমেঘা, রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে বন্যার পানি বাড়িতে প্রবেশ করায় বাড়িতে জ্বলছে না চুলা। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

বন্যার পানি বাসা-বাড়িতে উঠে যাওয়ায় জ্বলছে না চুলা। পাশাপাশি টিয়েবওয়েলগুলো ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষ।

এ ছাড়া পশু-পালন নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। পাশাপাশি তিন হাজার এক শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১ কিলোমিটার মেঘনা নদী তীররক্ষা বাধেঁর কাজও ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করা যাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুরে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বন্যার পানি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন, এরইমধ্যে ৫৭৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা ও তাদের পাশে দাড়াঁতে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা হবে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে।