চট্টগ্রামে কৃষিজমি নষ্ট করে কর্ণফুলী টানেলের রেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। খরচ করা হয়েছে কয়েক শ কোটি টাকা। অথচ এটি কোনো কাজেই আসছে না। নির্মাণের এক বছরের বেশি সময় ধরে এটি অলস পড়ে রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেকার বসে থাকছেন। সেতু বিভাগ বলছে, কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এরিয়াকে লাভজনক করতে ইজারা দেবে।
সমুদ্র ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে অভিজাত ৩০টি বাংলো। দামি আসবাব ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীতে সুসজ্জিত এসব অতিথিশালা। রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের বিলাসী ব্যবস্থা। রয়েছে সুইমিংপুলও।
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে ৭৪ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এরিয়া। দৃষ্টিনন্দন বাংলোর পাশপাশি রয়েছে দ্বিতল সম্মেলনকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হেলিপ্যাড, মসজিদ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। রয়েছে একটি জাদুঘরও। এসব স্থাপনায় বসানো হয়েছে ১ হাজার ১৮২ টন ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা। স্থাপনা পাহারায় রয়েছে ৮০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার।
রেস্টহাউজে কর্মরতরা জানান, এখানে সব অত্যাধুনিক আসবাবপত্র ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ভিআইপিরা এখানে এসে থাকতে যেন কোনো সমস্যার মুখোমুখি না হন, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই স্থাপনা নির্মাণে নষ্ট হয়েছে ফসলের খেত, লবণের মাঠ ও মাছের ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পারকী খালও। বিপুল অপচয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলছেন, সাত তারকা মানের হোটেলের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এরিয়ার এসব বাংলো। তবে আধুনিক ব্যবস্থার সব বন্দোবস্ত থাকলেও অলস পড়ে আছে এসব বাংলো। এ ছাড়া এ বাংলোর কারণে ফসলের মাঠ, লবণের মাঠ আর মাছের ঘের সবই নষ্ট হয়েছে। যারা এখানে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত, তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।
প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, লোকসান কমিয়ে আয় বাড়াতে সার্ভিস এরিয়া বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বাংলো পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত করতে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে।
১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হয়। এটি চালু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে।